ঢিলেঢালাভাবে পালিত বিএনপির হরতাল: রিজভীর দাবি 'স্বতঃস্ফূর্ত'
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। তবে, দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছে।
আজ (রোববার) সকালের দিকে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে রাস্তায় তেমনভাবে চোখে পড়েনি। রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যাটা স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কিছুটা কম রয়েছে। সদরঘাট-কেরানীগঞ্জে এলাকায় ভোর থেকেই সবপ্রকার গণপরিবহন ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানিয়েছেন, ‘ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ আন্তঃজেলাগামী সকল পরিবহন মহাখালী থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিএনপির ডাকা হঠাৎ হরতালে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রিজন ভ্যান, জলকামান, রায়টকার।
তীব্র আন্দোলনের একটা ধাপ হচ্ছে হরতাল: রিজভী
হরতাল চলাকালে সকাল ৯টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পাঁচ বছর পর হরতাল আহ্বানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পরিমাণ এতো বেশি হয়ে গেছে যে এখন আমাদের তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে হবে। সেই আন্দোলনেরই একটা ধাপ হচ্ছে হরতাল।
রিজভী বলেন, ইভিএম ভোট ডাকাতির একটা যন্ত্র। ইভিএম, ভোট ডাকাতিসহ সবকিছু মিলিয়ে যেভাবে নির্বাচন ছিনতাই করেছে, তার বিরুদ্ধেই এ হরতাল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা যদি মনে করে এভাবেই দেশ চলবে সেটা কোনো দিন চলতে পারে না। ন্যায়ের জয় হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। সরকারের চলে যাওয়াটা কেমন হবে সেটাই দেখার বিষয়।
রিজভী বলেন, আগেও আমি বলেছি অন্যায় করে, বেআইনি কাজ করে, মানুষের ওপর জুলুম করে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। এরা টিকে থাকতে পারবে না।
জাতীয় নির্বাচনের পরে হরতাল দেননি, এখন কেন দিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, কারণ একটাই- মানুষের কাছে সরকার হরতাল সম্পর্কে নানাভাবে বিকৃত তথ্য দিয়েছে। এখন হরতাল দিয়েছি এজন্য যে- মানুষের কাছে এটাই প্রমাণ করা যে হরতাল কোনো বিধ্বংসী অথবা জঙ্গি কর্মসূচি নয়। যুগে যুগে গণতান্ত্রিকামী-স্বাধীনতাকামী মানুষেরাই হরতাল দিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা হরতাল দিয়েছেন। হরতাল হচ্ছে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটা ভাষা। সেই ভাষাটাই আমরা প্রয়োগ করছি। কিন্তু নানা সময়ে সরকার সাবোট্যাজ করে এটাকে নানা ধরনের অপব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এ উপলব্ধিটা মানুষের মধ্যে এসেছে। তখন দেইনি বলে এখন দেওয়া যাবে না এমনতো কোনো কথা নেই। অন্যায়, অবিচার, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পরিমাণ এত বেশি হয়ে গেছে যে এখন আমাদের তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে হবে। সেই আন্দোলনেরই একটা ধাপ হচ্ছে হরতাল।
হরতাল কেমন চলছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারদিকে গাড়িঘোড়া চলছে না। দোকানপাট বন্ধ আছে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। জনগণ আমাদের ডাকা হরতালে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এটাই আমাদের পাওয়া।
এসময় রিজভীর পাশে ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, নিপুন রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ ১৫/২০ জন নেতাকর্মী। তারা হরতালের পক্ষে নানা রকম স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এসময় নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অন্যদিনের তুলনায় কমসংখ্যক গাড়ি চলতে দেখা যায়। এছাড়া সকাল থেকে বিএনপি অফিসের সামনে সারিবদ্ধভাবে বেশ কিছু পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।