বাড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার, বাড়ছে অনৈতিকতা-অসততা
২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন বাংলাদেশের। এ লক্ষ্যে চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। বাড়ছে নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বাড়ছে জিডিপির আকার। বড় বড় প্রকল্পে ঢুকে পড়েছে অসততা আর অনৈতিকতাও। যা দীর্ঘমেয়াদে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে শঙ্কা জানিয়েছেন অনেকে।
বিশ্বে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় এখন শীর্ষে বাংলাদেশ। অথচ, এর সঙ্গে সমানতালে বেড়েছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। ব্যাংক, বিমাসহ আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। বাড়ছে অর্থপাচার আর খেলাপি ঋণ।
দ্রুত উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে প্রকল্প নির্ধারণে অসততার অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্প বানাতে গিয়ে ঋণের চাপ বাড়ছে রাষ্ট্রের কাঁধে। আবার এসব প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকগুণ বেশি ব্যয় ধরা হয়। বালিশ বা পর্দাকাণ্ডের মতো কয়েকটি ঘটনায় সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আবার ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, সম্রাট, খালেদ ভুইয়া থেকে শুরু করে এনু-রুপন, পাপিয়াদের উত্থান নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। যা অর্থনীতির দুষ্টচক্রের প্রমাণ বলেই মনে করেন অনেকে।
প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ডক্টর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রবৃদ্ধিতে আমরা ভালো করছি। কিন্তু বিভিন্ন সেক্টরে নৈতিকতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এতে প্রবৃদ্ধি টেকসই করা কঠিন হবে। সেইসঙ্গে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়েও সমস্যা দেখা দেবে। দেশে গণতন্ত্র আছে, তবে একদলের প্রভাবেই সবকিছু চলছে। তাই বিশেষ কোন গোষ্ঠীকে সরকারের খুশি করার কিছু নেই। সেইদিক থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ নেয়া হচ্ছে কিনা, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ হবে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের চেয়ে দ্রুত গতিতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
এদিকে সরকারের লক্ষ্য, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের বেশি। ওই সময়ে হতদরিদ্রের হার কমে শূন্যের ঘরে নেমে আসবে। আর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গেলো মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের তৈরি এ প্রতিবেদন অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।