বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ৩ জন, বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া
-
বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। প্রাণঘাতী এ রোগে ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সরকার।
আজ (শুক্রবার) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানান গত ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এদের মধ্যে একজন ইতালিফেরত। অপর দু’জন প্রবাসীর সংস্পর্শে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের একজন ৭০ বছর বয়সের পুরুষ রোগী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে আছেন। এ ছাড়া, এখন পর্যন্ত দেশে আইসোলশনে আছেন ৩০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৪ জন।
ওদিকে, বাড়তি সতর্কতা হিসেবে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সারা দেশে সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ সময় সব ধরনের ওয়াজ মাহফিল ও তীর্থযাত্রা বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে, আজ (শুক্রবার) দেশের সকল মসজিদে জুমা নামাজে অংশ নিতে মুসল্লিদের ঢল নামে। করোনায় যেন বাংলাদেশ সুরক্ষিত থাকে সে কামনায় জুমার নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি মাওলানা এসানুল হক জিলানি। মোনাজাতে বিশ্বের সব দেশকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাতের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সাধারণ মুসল্লিরা।
বায়তুল মোকাররমে নামাজ শেষে উত্তর গেটে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

তবে, বিদেশ থেকে আগত বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের জন্য সব জেলায় গণকোয়ারেনটাইন স্থাপনের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
তাছাড়া, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসরকারি সাহায্য সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক আখতার কবির চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশব্যাপী তাদের সকল কর্মীবাহিনী বিশেষ করে কয়েক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এ কাজে সরকারকে সহায়তা করার জন্য মজুদ রয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন আগেই বন্ধ ঘোষণা হয়েছে; পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে জনসমাগম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং সকলপ্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে গতরাত থেকে দু'পাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারের রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সংক্রমণ রোধে সারাদেশে বাস, ট্রেন ও নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। সারাদেশে করোনা আতঙ্কের মাঝে, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের মূল্য হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০