করোনা প্রতিরোধ : নিরাপদ নন বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্সরাই
-
পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) পরিহিত দুই চিকিৎসক (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের দ্বারা এ ভাইরাস এখন ছড়িয়ে পড়ছে তাদের পরিবারেও। এ নিয়ে আতঙ্কে দেশের মানুষ।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) রোববারে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের আর পাঁচজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া করোনাআক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৭ হাজার মানুষ। যদিও গত ১৫ দিনে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশি।
করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতালসহ চারটি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, মিডফোর্ড হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তবে কোনো রকম পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ছাড়াই চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের। নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদেরও নেই নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছেন তারাসহ সাধারণ রোগীরাও।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্য নয়, রোগীসহ অন্যদের সুরক্ষার জন্য পিপিই লাগবে। সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে, সবার পরিবার আছে। কেউ আক্রান্ত হলে পরিবারও আক্রান্ত হবে। তাই চিকিৎসকরা কোয়ারেন্টাইনে চলে গেলে জনবল সংকট দেখা দেবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই সরবরাহের নির্দেশ হাইকোর্টের
এদিকে, বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হাসপাতালের চিকিৎসক, রোগী, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই সংগ্রহ ও সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কী কী উপকরণ দরকার, তার তালিকা করে সাতদিনের মধ্যে তা সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ (রোববার) দুপুরে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশে পক্ষে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন একলাছ উদ্দিন ভুইয়াসহ তিন আইনজীবী।
করোনা আক্রান্তদের জন্য রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দিয়াবাড়ি সরকারি আবাসন প্রকল্পেও বিশেষ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ সেন্টার দুটো পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২২