বাংলাদেশে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু: সরকারের নির্দেশনা মানতে হাইকোর্টের পরামর্শ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78546-বাংলাদেশে_করোনায়_আরও_একজনের_মৃত্যু_সরকারের_নির্দেশনা_মানতে_হাইকোর্টের_পরামর্শ
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ জনে। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। আজ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৯। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরো ৪৭ জন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ২৫, ২০২০ ০৮:১০ Asia/Dhaka
  • অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
    অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ জনে। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। আজ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৯। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরো ৪৭ জন।

আজ (বুধবার) দুপুরে মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে পুরাতন আক্রান্তদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়ছে। মৃত ব্যক্তি ৬৫ বয়স্ক একজন পুরুষ। তিনি বিভিন্ন ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশনসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

ডা. ফ্লোরা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তির শরীরে গত ১৮ মার্চ করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তখন তাকে এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর কোভিড-১৯ -এর চিকিৎসার জন্য সরকার নির্ধারিত কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আজ সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

আইইডিসিআর পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনে ২৭৩০টি কল এসেছে; সবগুলোই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত। গতকাল নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮২ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট ৭৯৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ডা. ফ্লোরা জানান, সম্প্রতি আক্রান্তদের মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের শরীরে এখন আর করোনার সংক্রমণ নেই। এ নিয়ে মোট সাতজন সুস্থ হলেন।

চট্টগ্রামে মৃত্যু নিয়ে গুজব

এদিকে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ বছর বয়ষ্ক এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। 

রংপুরে করোনা সন্দহে ভর্তি  

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক যুবককে (২৮) রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় জ্বর ও সর্দি নিয়ে ওই রোগী হাসপাতালে আসলে তাকে করোনা ইউনিটের আইসোলেশনে নেয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

হাসপাতালে ভর্তি যুবক নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে এক রোগীর সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে। জানা যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ঢাকায় আইইডিসিআরের সাথে যোগাযোগ করছেন।

কক্সবাজারে ১০ চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে

ওদিকে কক্সবাজার থেকে প্রাপ্ত এক খবরে জানা যায়, কক্সবাজারে প্রথম একজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি ১৩ মার্চ ওমরাহ হজ পালন করে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার নাম মোসলিমা খাতুন। তিনি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদের স্ত্রী এবং কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানের মাতা। তার আনুমানিক বয়স ৬৫ বছর।

ওই রোগী ১৮ই মার্চ জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনা সন্দেহে পরীক্ষা করার জন্য ২২ মার্চ ঢাকাস্থ আইইডিসিআরে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। গতকাল পাঠানো রিপোর্টে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে। মুসলিমা খাতুন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫০১ নম্বর কেবিনে রয়েছেন। বিশেষ এম্বুলেন্সে করে তাকে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকার করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় ডাক্তারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ১০ চিকিৎসকসহ মোট ২১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ

করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে সে নির্দেশনা মানতে ও আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় দল-মত নির্বিশেষে এক হয়ে কাজ করতে হবে। চীনের পাশের দেশ তাইওয়ান হওয়া সত্ত্বেও তারা কিভাবে করো না মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে সেই মডেলটি অনুসরণ করতে বলেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউন হওয়া উচিত বলে মনে করেন হাইকোর্ট।

সারাদেশে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মোঃ রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।