করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি!
'বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে মৃতদের করোনা ছিল না'
বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যারা মারা গেছেন তাদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ ধরণের উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে আইইডিসিআর নিশ্চিত হয়েছে যে, মৃতদের কারো দেহে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ছিল না।
মঙ্গলবার অনলাইনে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ঢাকার বাইরের মৃত্যুগুলো নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। তারা কেউ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।
ডা. ফ্লোরা জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুইজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
সন্দেহজনক মৃত্যুতে বাড়ি লকডাউন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সবুজ হাওলাদার (১৮) নামে এক স্কুলছাত্র আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়িতে মারা গেছে। ওই ছাত্র করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রশাসন নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে। তবে, করোনা সন্দেহে প্রশাসন ওই ছাত্রের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে।
এ ছাড়া, ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসা এক ব্যক্তি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে করোনাভাইরাস সতর্কতায় ওই বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়িতে লাল নিশান টাঙিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। বাড়ির সদস্যদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন লাবু জানান, অসুস্থ ওই ব্যক্তির বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। তিনি ভারতে থাকতেন। ভারত থেকে সোমবার সকালে নলছিটির শ্বশুর বাড়ি আসেন। তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন।
ওদিকে, মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠির রাজাপুরে সাউথপুর গ্রামের নাপিতবাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হাকিম নামে এক দিনমজুররের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর পর এলাকায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সিলেটে মৃত্যু
এছাড়া, জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের (সদর হাসপাতাল) আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক কিশোরীর (১৬) মৃত্যু হয়েছে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে। তার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার জালালপুর গ্রামে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় দাফন-কাফনের জন্য মরদেহ তার পরিবারের জিম্মায় প্রদান করা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে জীবিত অবস্থায় ওই কিশোরীর থ্রট সোয়াব বা গলার জলীয় পদার্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: প্রেমানন্দ মণ্ডল।#
পার্সটুডে/এআরকে/এমএএইচ/৩১