শবে বরাতের নামাজ ঘরে বসে পড়ার আহ্বান, পোশাক শ্রমিকদের ঢাকামুখী স্রোত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78810-শবে_বরাতের_নামাজ_ঘরে_বসে_পড়ার_আহ্বান_পোশাক_শ্রমিকদের_ঢাকামুখী_স্রোত
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের মুসলমানদের আসন্ন শবে বরাতের (৯ এপ্রিল) নামাজ ঘরে পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় সরকারি এ সংস্থাটি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ০৪, ২০২০ ১৫:১৩ Asia/Dhaka
  • মসজিদে শবে বরাতের ইবাদাত (ফাইল ফটো)
    মসজিদে শবে বরাতের ইবাদাত (ফাইল ফটো)

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের মুসলমানদের আসন্ন শবে বরাতের (৯ এপ্রিল) নামাজ ঘরে পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় সরকারি এ সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধকল্পে সরকার সব সরকারি-বেসরকারি অফিস ‍ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সব ধরনের সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সকলকে হোম কোয়ারেনটাইন পালন করতে কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও মসজিদে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখার আহ্বান করা হয়েছে। অযু, নফল ও সুন্নত নামাজ বাসায় আদায় করার অনুরোধ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা মান্য করে আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে নিজ নিজ বাসস্থানে বসে পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত যথাযথ মর্যাদায় আদায় করার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

পরিবহন বন্ধ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত 

এদিকে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দেশের সব ধরনের যানবাহন বন্ধের সময়সীমা আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।  

শনিবার সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে ভিডিও বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সব ধরনের যানবহন বন্ধ ঘোষণা করেছিল। সরকার আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি বর্ধিত করেছে। এই অবস্থায় জনস্বার্থ বিবেচনায় আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ রাখার অনুরোধ করছি। তবে জরুরি সার্ভিস বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ওষুধ, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য, ত্রাণবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। তবে পণ্যবাহী যানে কোনোভাবেই যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।”

পোশাক শ্রমিকদের ঢাকামুখী স্রোত

দেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। সারাদেশে কার্যত স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি সবাই। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন।

এ অবস্থায় চাকরি বাঁচাতে পায়ে হেঁটে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন হাজারো পোশাক শ্রমিক। শনিবার থেকে গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় এ অবস্থায় কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

করোনাভাইরাস দুর্যোগ উপেক্ষা করে হাজারো পোশাক শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গতকাল থেকে ভ্যান, ট্রাকে, কাভার্ডভ্যান যে যেভাবে পারছেন কর্মস্থলে ফিরেছেন।

অনেক শ্রমিক জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কারখানাগুলো ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ৪ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো খোলা হয়। যদি সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না পৌঁছেন তাহলে চাকরিচ্যুতির ঘোষণা দিয়েছে মালিকপক্ষ। এজন্য পায়ে হেঁটে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন তারা।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪