ঢাকায় ১০ দিনে করোনা রোগী বেড়েছে ৫ গুণ, গাজীপুরে থানা লকডাউন
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79258-ঢাকায়_১০_দিনে_করোনা_রোগী_বেড়েছে_৫_গুণ_গাজীপুরে_থানা_লকডাউন
বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কোভিড উনিশে সংক্রমিত এলাকা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে আর রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচগুণের মতো।
(last modified 2026-03-08T13:29:51+00:00 )
এপ্রিল ২১, ২০২০ ২০:৫৬ Asia/Dhaka
  • ঢাকায় ১০ দিনে করোনা রোগী বেড়েছে ৫ গুণ, গাজীপুরে থানা লকডাউন

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কোভিড উনিশে সংক্রমিত এলাকা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে আর রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচগুণের মতো।

সরকারের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর-এর এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ দেখা যায়, গত ১১ এপ্রিল যেখানে ঢাকার সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা ছিল ৭০ টি, সেখানে ১০ দিনের মাথায় তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ টিতে।

এদিকে, সারা দেশে নোভেল করোনা সংক্রমিত (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরইমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩৪ জনের করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৯ জন।

মঙ্গলবার দুপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা জেলায় সর্বাধিক করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করলেও কতজন সংক্রমিত হয়েছেন সেটা প্রকাশ করেন নি।

সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল রউফ বলেন, আমরা এখন চতুর্থ ধাপের প্রথম স্তরে আছি। সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়বে। আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় নিয়ে থাকে। আক্রান্ত হওয়ার পর কিছু চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে একটা রোগীর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত রূপ চেঞ্জ করছে। আমাদের দেশে চেঞ্জ হয়েছে কিনা জানি না।তবে প্রতিবেশী ভারতে একটা চেঞ্জ হয়েছে।

গাজীপুরে থানা লকডাউন

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার আরো ২০ পুলিশ সদস্যের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গাছা থানায় ২৫ পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হল।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথমে গাছা থানায় একজন অফিসারের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থানার বাবুর্চিসহ আরো ৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। সোমবার নমুনা পরীক্ষায় গাছা থানার আরো ২০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। তাদের মধ্যে গাছা জোনের এসি, একজন পুলিশ পরিদর্শক ও পুলিশের মহিলা সদস্যও রয়েছেন। তবে তারা সকলেই সুস্থ আছেন এবং তাদের শরীরে এখনো কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। থানা লকডাউন করা হয়েছে।

তিন নারী সদস্য ছাড়া অন্য সবাই থানায় আইসোলেশনে আছেন বলে জানান তিনি।

মাঠ প্রশাসনের ১৩ জন কর্মকর্তা আইসোলেশনে

এদিকে, করোনা সংক্রমিত এলাকায় মাঠ প্রশাসনের ১৩ জন কর্মকর্তা করোনায় অক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে এবং কোয়ারেন্টিন আছেন। 

করোনা ঝুঁকিতে থাকা বিশেষ এলাকায় কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়ন, রাস্তায় বা বাজারে  সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিকরণ, ত্রাণ বিতরণ, এমনকি করোনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে এসব প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মাঠের দায়িত্ব পালনকালে যথেষ্ট সতর্ক থাকলেও, সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

আইসোলেশনে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ফারজানা আক্তার গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে  টেলিফোনে জানান, কোভিড-১৯ পজিটিভ আক্রান্ত কয়েকটি স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত থেকে এলাকা লকডাউন করতে হয়েছে। আমার কিছু সিম্পটম ছিল, জ্বর এসেছিল। তাই আটদিন যাবত আমি আইসোলেশনে আছি।'

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা বলেছেন, 'করোনা সন্দেহে  মৃত এক ব্যক্তির দাফন কাজে নিয়োজিত ছিলাম। করোনা মোকাবেলায় সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক জনগণের সংস্পর্শে আসতে হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে,সেই থেকে আমি করোনায় আক্রান্ত।

নতুন ‘হটস্পট’ নরসিংদী

নরসিংদীকে করোনার নতুন ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইডিসিআর। আক্রান্ত ১৩৪ জন ছাড়াও গত শনিবার মাধবদীর পাইকারচর ইউনিয়নের পুরানচর এলাকায় আমির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত্যুর পর তার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসে।

এদিকে, জেলাজুড়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের প্রায় অর্ধেকই স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা গেছে। গত শনিবার পর্যন্ত প্রকাশিত আক্রান্তদের তালিকায় ১০৪ জনের মধ্যে চারজন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নানা পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৪৬ জন রয়েছেন। এতে জেলার সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি জনসাধারণও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১৬ জন কর্মকর্তা ও ১৪ জন কর্মচারী এবং ১২ জন নার্স রয়েছেন।

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সবাই নরসিংদীর দুইটি প্রধান হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কর্মী।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।