বাংলাদেশে লকডাউনের মধ্যেও দেড় হাজার কারখানা চালু: বাড়ছে করোনা ঝুঁকি
-
বিজিএমইএ\'র ৮৬৭টি পোশাক কারখানা গতকালনাগাদ চালু
করোনা পরিস্থিত মোকাবেলায় ঘোষিত লকডাইনের মধ্যেও প্রধান রপ্তানিখাত তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) প্রথম ধাপে ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কারখানা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একাধিকবার অনুরোধের পর গত ৬ এপ্রিল কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ (বাংলাদশ নিটওয়ার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন)। পরে সেই বন্ধ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তার মধ্যেই সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা খোলার প্রক্রিয়া শুরু করে সংগঠন দুটি।
কথা ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশেপাশের এলাকা থেকে ৩০ শতাংশ শ্রমিক নিয়েই কারখানা চালু করতে হবে যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকরা কাজ করতে পারে। পরবর্তী ধাপে শ্রমিকের সংখ্যাটি ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ ছিল।
কিন্তু বিজিএমইএ’র এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক কারখানা শুরুতেই ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ চালু করে। আর বেশিসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোয় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অঞ্চলভেদে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে কারখানা চালুর নির্দেশনা থাকলেও শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় সব মিলিয়ে বিজিএমইএর ৮৬৭টি সদস্য কারখানা গতকালনাগাদ চালু হয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিকেএমইএ’র ২২৩টি ও বিটিএমএর সদস্য ৯৭টি বস্ত্রকলও উৎপাদন শুরু করেছে। তাছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ৩৬৪ কারখানার মধ্যে ২৭০টি চালু হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু পোশাক কারখানাও রয়েছে।
কারখানা খোলার খবর পেয়ে দূরের জেলার শ্রমিকেরা তাদের চাকরি রক্ষার তাগিদে এবং বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায় বিপুল সংখ্যায় নিজ নিজ কারখানায় ফিরতে শুরু করে। এর ফলে চলমান লকডাউনের কার্যকরিতা বিশেষকরে ঘরে থাকার নির্দেশ বা জনচলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যত অচল হয়ে হয়ে যায়।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেছেন, লক ডাউন কঠোরভাবে পালন না করায় করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের আশংকা রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে পরবে।
এদিকে, পোশাক শ্রমিকরা অনেক স্থানে কাজে যোগ দিতে এসে দেখতে পায় তাদের কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, শ্রমিক ছাটাই হয়েছে এবং আগের মাসের বেতনটাই দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। সামনে ঈদুল ফিতরের উৎসব বোনাসেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে শ্রমিকদের মাঝে হতাশা এবং ক্ষোভ বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোহাম্মদ আশঙ্কা করছেন শ্রমিকদের বেতন না পাওয়া বা বেকার হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে সামাজিক বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে।
বিজেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাস শেষ হলেও ১৮৫টি পোশাক ও বস্ত্র কারখানা গত মার্চের মজুরি পরিশোধ করেনি। বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও বিভিন্ন দাবিতে গত সপ্তাহজুড়েই রাজধানী ঢাকাসহ সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন।
এদিকে আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসেও (মে দিবস) বিভিন্ন স্থানে কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করার ফলে শ্রমিকরা বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছে। এ নিয়ে আশুলিয়া এলাকায় পুলিশের মুখোমুখিও হতে হয়েছে শ্রমিকদের। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই লকডাউন আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি গৌণ হয়ে দেখা দিয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।