বাংলাদেশে করোনার কারণে ঈদ ঘিরে নেই আনন্দ উচ্ছাস, আছে সতর্কবার্তা
মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনাসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (রোববার) সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে আজ বিশ্ব সমাজ আক্রান্ত। এ সংকটে সুনিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপন করুন।’
এদিকে, করোনা কবলিত বিশ্বে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে এসেছে এবারের ঈদুল ফিতর যেখানে মানুষের মাঝে তেমন একটা আনন্দ উচ্ছাস দেখা যাচ্ছে না। সর্বত্রই একটা নিরানন্দের ছাপ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। হচ্ছে না কোনো আন্তরিকতার কোলাকুলি। বন্ধ গণপরিবহন, দূর পাল্লার যাত্রায় ভোগান্তি। নগরীতে নেই কোনো আলোক সজ্জা। নেই ঈদ-মোবারক খচিত পতাকার সাজ। ঈদ কার্ড বিনিময়, নতুন পোশাক পড়া- এসব করার সুযোগ বা সামর্থ নেই অনেকেরই। এক দিকে অভাব-অনটন। অন্যদিকে করোনার ঝুঁকি।
এদিকে আজ স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা অনুরোধ করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের জন্য। আবারো অনুরোধ করেছেন জনসমাগম এড়িয়ে চলতে, ঈদের জামায়াতে দূরত্ব বজায় রাখতে এবং কোলাকুলি না করতে।
এবার উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামায়াত হবে না
করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এবার ঈদগাহে ঈদের জামাত না পড়তে নির্দেশ দিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে মসজিদে স্বল্প পরিসরে একাধিক জামাত করতে পারবে মুসল্লীরা। এছাড়া জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে। এ নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আগেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন; করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
এ ছাড়া, ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।