চিকিৎসা দিতে অনীহায় রোগীর মৃত্যু 'ফৌজদারি অপরাধ'-হাইকোর্ট: বিশেষজ্ঞ প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের কোনো সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে আসা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখালে এবং এতে ঐ রোগীর মৃত্যু হলে তা 'অবহেলাজনিত মৃত্যু' অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে অভিমত দিয়েছে দেশটির হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ (সোমবার) সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
তাছাড়া, দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আসা রোগীদের ফেরত না পাঠিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত ১১ মে যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ডাক্তার ফয়জুল হাকিম রেডিও তেহরাকে বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সরকার যে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অক্ষম তা কোভিট-১৯ সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে আজ জনগণের কাছ একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত নির্দেশনাও যে পালিত হয় না তাও আজ আদালতের নির্দেশের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।
এরআগে করোনাকালীন হাসপাতাল-ক্লিনিকে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন চেয়ে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট এএম জামিউল হক, মো. নাজমুল হুদা ও মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান।
ওদিকে, একই আদালত আজ লকডাউন সংক্রান্ত অপর একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই মর্মে রায় দিয়েছে যে, “সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোভিড -১৯ সংক্রমণের সংখ্যা বিবেচনায় লাল হলুদ ও সবুজ জোনে বিভক্ত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় বর্তমান পর্যায়ে লকডাউনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া সঙ্গত হবে না বলে আদালত মনে করে।“
এ প্রসঙ্গে রিট পিটিশনারের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, যদি লকডাউন ঘোষণা অনুযায়ী কার্যকর না করা হয় তাহলে বিষয়টি নিয়ে আবারো আদালতের দারস্থ হতে হবে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১৫