বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পক্ষে আইন পাস হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিএনপির
-
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ( ফাইল ফটো)
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পক্ষে কোন আইন পাস হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
আজ (বুধবার) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বছরে কয়েকবার বৃদ্ধির জন্য সংসদে উত্থাপিত বিলের বিরুদ্ধে শুধু তীব্র নিন্দা নয়, ধিক্কার জানাচ্ছি। সংসদে এ আইন পাস না করার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
উল্লেখ্য, একাধিকবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম পরিবর্তনের সুযোগ রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন’ (সংশোধন) বিল-২০২০ উত্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ। গত বছর ডিসেম্বরে বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।
এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংসদে অনুমোদনের জন্য এ বিলটি উত্থাপন করে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে তারা গণদুশমন, একটি নিষ্ঠুর অবিবেচক সরকার। ২০০৩ সালে পাস হওয়া বিদ্যমান আইনে কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু, গতকাল সংসদে উত্থাপিত আইন কার্যকর হলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বছরে এক বা একাধিকবার বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোলসহ আরো জ্বালানির দাম পরিবর্তন করতে পারবে। বছরে বারবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিল পাস মানে জনগণকে বুলডোজার দিয়ে পিষে মারা।
এ ছাড়া, বাম রাজনৈতিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, বছরে একাধিকবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ রেখে আইনের সংশোধন করার ফলে সরকার ও কোম্পানীগুলিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে। সরকারের এ “গণবিরোধী তৎপরতার” বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী কাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শারীরিক দূরত্ব রেখে মানববন্ধন-বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ঢাকায় বেলা ১১টায় সচিবালয়ের সামনে, জেলায় ডিসি কার্যালয় ও উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সম্মুখে এই কর্মসূচি পালিত হবে। আজ সকালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অনলাইন মিটিং এ এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ওদিকে, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজধানী সর্বত্রই ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ভোক্তারা। অনেকের অভিযোগ, সাধারণ সময়ের চেয়ে মে মাসের বিল এসেছে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি। তাছাড়া, করোনায় বন্ধ বাসা বা দোকানপাটেও অস্বাভাবিক বিল দেয়া হয়েছে।করোনার প্রাদুর্ভাবের পরপরপই, তিন মাসের বিলম্ব মাশুল মওকুফের ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু এ সময়ে মিটার রিডিং ছাড়াই গড় বিলের নামে আসতে থাকে ভুতূড়ে বিল। এ নিয়ে শহরে কিছুটা সমাধান মিললেও ভোগান্তি কমেনি গ্রামে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি দায় চাপিয়েছেন বিতরণকারীদের ঘাড়ে।এ অবস্থায় বিতরণকারি কোম্পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের সমস্যায় নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস বা হটলাইনে যোগাযোগ করলে সমাধান মিলবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।