সরকার অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে: ডা. জাফরুল্লাহ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80951-সরকার_অন্ধকার_ঘরে_কালো_বিড়াল_খুঁজে_বেড়াচ্ছে_ডা._জাফরুল্লাহ
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশী চিকিৎসক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেছেন, 'আসলে সরকার একটা অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনা সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করবে, সেটা তাদের চিন্তার মধ্যে নাই।“
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ২৫, ২০২০ ১৫:৩০ Asia/Dhaka

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশী চিকিৎসক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেছেন, 'আসলে সরকার একটা অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনা সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করবে, সেটা তাদের চিন্তার মধ্যে নাই।“

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন সদ্য করোনামুক্ত ডা. জাফরুল্লাহ । 

তিনি জানান,  করোনার মূল প্রবাহ (পিক টাইম) তো আসবে এ মাসে বা তার পরের মাসে। যখন এটা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য একটা সুষ্ঠ  স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দরকার।' তিনি বলেন, আমাদের জনস্বাস্থ্য নিয়ে আন্দোলনটাকে শক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। জনগণ দাবি উঠানো ছাড়া, আওয়াজ উঠানো ছাড়া বাংলাদেশে কোনো দিন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তো নয়ই কোনো ক্ষেত্রেই উন্নতি হবে না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার জন্য দেশবাসীর অভূতপূর্ব ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আপনারা যে আমার জন্য দোয়া করেছেন, তা অকল্পনীয়। একজন মানুষকে যে মানুষ এতো ভালোবাসতে পারে, তা আগে জানতাম না। একাত্তরে যুদ্ধ করে ভালোবাসা পেয়েছিলাম। এখন আবার আপনাদের ভালোবাসা পাচ্ছি।"

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র‌্যাপিড কিট বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে অ্যান্টি বডি কিটের বিষয়ে প্রতিবেদন আরও এক সপ্তাহ আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দেওয়া হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সে অনুযায়ী অনুমোদন দেওয়ার জন্য কয়েক দফা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে চিঠি লেখার পরও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরে ঢোকার মুখে গেটে বড় তালা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে এখন ঢোকা খুব মুশকিল। গণস্বাস্থ্যের কেউ হলে সেটা আরও মুশকিল হয়ে যায়। বারবার সেখানে গিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েও সময় পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও গণস্বাস্থ্যের একজন কর্মকর্তা অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।

তিনি আরও জানান, অ্যান্টিজেন কিট পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ’র সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। অ্যান্টিজেন কিট পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা, নমুনা সংগ্রহের জন্য যে ডিভাইসের জন্য এটা স্থগিত রাখা হয়েছিল, সেই ডিভাইস সরবরাহ করা হয়েছে। অ্যান্টিজেন পরীক্ষার একটি বিশেষ ধরনের প্রটোকল দরকার। এজন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতিও নিতে হয়। সেটাও সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষা শুরু হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তার চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মামুন মোস্তাফি বলেন, 'জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা নেগেটিভ হলেও বুকের ৮০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তাকে দামী ওষুধ দিলেও তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলে দেন, গ্রামের একজন মানুষ, খেটে খাওয়া কৃষক যে সেবা নিতে পারেন না, যে ওষুধ কিনতে পারেন না, তিনি তা গ্রহণ করবেন না। ঢাকা মেডিকেলে তার জন্য কেবিন রেডি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলে দিয়েছেন, ওখানে থেকে তার গ্রামের একজন মানুষ চিকিৎসা নিতে পারবেন না, তাই তিনিও নেবেন না।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কভিড-১৯ শনাক্তকরণ র‌্যাপিড কিটের গবেষক দলের প্রধান ডা. বিজন কুমার শীল, র‌্যাপিড কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার, ডা. জাফরুল্লাহর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক মামুন মোস্তফা এবং ডা. নাজিব মোহাম্মদ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/মো.আবুসাঈদ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।