স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে দায় এড়ানোর চেষ্টা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i81382-স্বাস্থ্য_অধিদপ্তরের_বিজ্ঞপ্তিতে_দায়_এড়ানোর_চেষ্টা_বিচার_বিভাগীয়_তদন্তের_দাবি
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সার্বিক দুরবস্থা, ব্যাপক দুর্নীতি, চরম দুর্বৃত্তায়ন ও গণ-প্রতারণার ব্যাপারে যখন দেশবাসী ফুঁসে উঠেছে, তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ১২, ২০২০ ১১:৩৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সার্বিক দুরবস্থা, ব্যাপক দুর্নীতি, চরম দুর্বৃত্তায়ন ও গণ-প্রতারণার ব্যাপারে যখন দেশবাসী ফুঁসে উঠেছে, তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

গতকাল রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের সাফাই বক্তব্য গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, বহুল আলোচিত প্রতারক প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চুক্তি করেছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণাকারী অপর একটি প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন স্বাস্থ্যসেবা প্রজেক্ট (জেকেজি) এভাবে প্রতারণা করবে তা তাদের ধারণায় ছিল না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইদানিং কোনো কোনো স্বার্থান্বেষীমহল কল্পিত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনাম নষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়কারী ডাক্তার নিরুপম দাশ রেডিও তেহরানকে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের ব্যাপারে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

তিনি আরো জানান, চিহ্নিত অপরাধীরা নিম্ন মানের নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মীসহ অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার করে মানুষের জীবনকে সংকটাপন্ন করেছে। সে কারণে এদের বিরুদ্ধে হত্যা করা ও হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে হবে। তাছাড়া এদের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে; প্রবাসীরা বিপদগ্রস্ত হয়েছে, বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এসেছে- এসব অপরাধেরও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে।

ডাক্তার নিরুপম দাশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন বলছে, “রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী মো. সাহেদ করিমের বিভিন্ন প্রতারণার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগে অবহিত ছিল না। দেশে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগী ভর্তি করতে চাইছিল না। এ অবস্থায় রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা ও মিরপুরে অবস্থিত ওই নামের দুটি ক্লিনিককে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ডেডিকেটেড করার আগ্রহ প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। ক্লিনিক দুটি পরিদর্শনের সময় চিকিৎসার উপযুক্ত পরিবেশ দেখলেও লাইসেন্স নবায়ন ছিল না। বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি হয়।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, “২১ মার্চ তারিখে এই সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের পূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিচয় থাকা তো দূরের কথা টক শো ছাড়া কখনও মো. সাহেদকে দেখেননি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে এই রোগের চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসে রিজেন্ট হাসপাতাল। তবে তাদের পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়ে’ গত সপ্তাহে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে তারা এভাবে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ছাড়াও আরও অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ওই হাসপাতাল সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উত্তরা ও মিরপুরে হাসপাতাল দুটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় র‌্যাবের দায়েরকৃত মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও মালিক মোহাম্মদ সাহেদসহ এখনও তার কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে আছেন। তাদের ধরতে চেষ্টা চলছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলে আসছেন।

অপরদিকে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারকে (জেকেজি) নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, জেকেজির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুল চৌধুরী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক। ওভাল গ্রুপ ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ২০১৮, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।

“কোভিড সঙ্কট শুরু হওয়ার পর আরিফুল হক জানান, জেকেজি গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলে বাংলাদেশে কিছু বুথ স্থাপন করতে চায়। এসব বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণাগারে সরবরাহ করবে। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকারকে কোনো অর্থ দিতে হবে না।

“ধারণাটি ভালো এবং কোভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন এই বিবেচনা থেকে ওভাল গ্রুপের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে অনুমতি দেওয়া যায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনে হয়। পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ায় বুথ পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, “দ্রুত কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য ও সদিচ্ছা নিয়ে জেকেজিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করতে পারে এমন ধারণা আদৌ ছিল না।”

কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরিফুল চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উপসংহারে বলা হয়েছে, “কেউ অপরাধ করলে তদন্তেই তা ধরা পড়বে এবং শাস্তি হবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যক্তির চরিত্র হনন এবং তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কাম্য নয়,”

#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।