রিজেন্ট হাসপাতালের তথ্য দিতে দুদক কার্যালয়ে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i82223-রিজেন্ট_হাসপাতালের_তথ্য_দিতে_দুদক_কার্যালয়ে_স্বাস্থ্যের_সাবেক_ডিজি_আজাদ
বাংলাদেশের রাজধানীর বিতর্কিত রিজেন্ট হাসপাতাল নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় জবাব দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ১৩, ২০২০ ০৭:২০ Asia/Dhaka
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

বাংলাদেশের রাজধানীর বিতর্কিত রিজেন্ট হাসপাতাল নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় জবাব দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যান। সকাল ১০টা থেকে দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বাধীন একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। একই বিষয়ে বুধবার দলটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক ইউনুস আলী ও গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসবাদ করে। আরেক উপ-পরিচালক ডা. শফিউর রহমানকে ডাকা হলেও তিনি ডাকে সাড়া দেননি।

এর আগে গতকাল (বুধবার) সকালে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের মাস্ক-পিপিই ক্রয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনায় জবাব দিতে দুদকে যান ডা. আবুল কালাম আজাদ। বিকেল ৩টার দিকে দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ডা. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, মাস্ক ক্রয়ে কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হোক এটা আমিও চাই। এবং এ বিষয়ে দুদককে তদন্তে আমি সকল সহযোগিতা করব।’

আবুল কালাম আজাদের কার্যালয়ে রিজেন্ট চেয়ারম্যান মো. শাহেদ। (ফাইল ফটো)

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এ মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা সকলে জানেন, আমি ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি লক্ষ করছিলাম; আমাকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। পদে থাকা আমার কাছে সম্মানের বিষয় নয়। তাই বিবেক তাড়িত হয়ে গত ২১ জুলাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। কোভিডের সময় মাস্ক ক্রয়ে দুর্নীতির বিষয়ে আমি কী জানি, সেটা জানাতে আমাকে আসার অনুরোধ করেছিল দুদক। আমি এ বিষয়ে যা যা জানি, তার সবই দুদককে বলেছি। এ মুহূর্তে তদন্তাধীন বিষয় সর্ম্পকে এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি একজন সৎ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান, কর্মঠ, নিরহংকার কর্মকর্তা হিসেবে সারাজীবন কাজ করেছি। আমি অতি সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলাম। কোভিডের মতো ভয়ংকর দুর্যোগে লঅখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করেছি। আমি নিজেও আক্রান্ত হয়েছি। মহান রাব্বুল আলামিনের কৃপায় ২০ দিন পর মৃত্যুর দুয়ার থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছি। এ জন্য ডাক্তার, নার্স, সাংবাদিকদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর আমি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় কেউ অপরাধ করলে সে শাস্তির মুখোমুখি হবেন আমিও সেটা চাই।’

এরপর ডা. আবুল কালাম আজাদ আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে বক্তব্য দিতে তিনি আজ  দুদক কার্যালয়ে আসেন।

দুটি অভিযোগ অনুসন্ধানে বক্তব্য নেয়ার জন্য গত ৬ আগস্ট আবুল কালাম আজাদকে তলব করেছিল দুদক। তলবের চিঠিতে আবুল কালাম আজাদকে ১২ ও ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়।

সমালোচনার মুখে ডা. আবুল কালাম আজাদ গত ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রক্রিয়া শেষে ২২ জুলাই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। পরের দিন ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ডিজি হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।