বাংলাদেশে করোনাভাইরাস:
অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিন বন্ধে সরকারের বক্তব্য এবং বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে একদিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ২ হাজার ৬১৭ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসেব অনুয়াযী ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এ অবস্থায় অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিন বন্ধ রাখার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমে আসায় সরাসরি ব্রিফিং না করে, প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনার সবশেষ তথ্য জানানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ সংক্রান্ত এক সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, ভিন্ন কারণের কথা। তিনি জানিয়েছেন, দিনের পর দিন একজন মানুষের পক্ষে প্রতিদিন মৃত্যুর খবর বলা খুবই মানসিক চাপের কারণ হয়ে গিয়েছিল। তাই আপাতত: বন্ধ রাখা হয়েছে অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিন।
তবে, অনলাইন বুলেটিন বন্ধ করার কারণ যাই হোক না কেন, এরকম সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডাক্তার এম এ জাকির হোসেন বলেছেন, এটা বন্ধ করা উচিত হয় নি। এ খবর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রচার হলেও তা কয়েক ঘন্টা পরে টিভিতে অথবা একদিন পরে পত্রিকায় প্রকাশ পাবে। তাতে বিষয়টির তাৎক্ষণিকতার গুরুত্ব হারাবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত বুলেটিন একেবারে বন্ধ না করে সপ্তাহে দুইদিন প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন ।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা সংক্রমণ,মৃত্যুসহ প্রতিদিন স্বাস্থ্য বিভাগের আপডেট বন্ধ হলে সংক্রমণ বিস্তারে জনমানুষের মাঝে শৈথিল্য দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি গুজবের ডাল-পালা বিস্তারের আশঙ্কাও থেকে যাবে। তাই বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনায় নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ মনে করেন,সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনলাইন বুলেটিন বন্ধ করায় ভুল বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের কাছে। অনেকে মনে করবেন, মহামারি গুরুত্ব হারিয়েছে। মানুষ গায়ে বাতাস লাগিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবেন। সামাজিক দূরত্বের বালাই থাকবে না। অনেকে এখন আর মাস্ক পরার প্রয়োজন বোধ করবেন না।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৩