তাইওয়ানে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশ গ্রহণ করায় অসন্তুষ্ট চীন!
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i82746-তাইওয়ানে_তৈরি_চিকিৎসা_সরঞ্জাম_বাংলাদেশ_গ্রহণ_করায়_অসন্তুষ্ট_চীন!
করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তাইওয়ানে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম উপহার হিসেবে গ্রহণ করায় অসন্তুষ্ট হয়েছে চীন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেলিফোন করে চীনের অসন্তোষের কথা ব্যক্ত করে চীন দূতাবাস জানিয়েছে, এটা বাংলাদেশের ঘোষিত এক চীন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০২, ২০২০ ১৩:০৭ Asia/Dhaka
  • তাইওয়ানে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশ গ্রহণ করায় অসন্তুষ্ট চীন!

করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তাইওয়ানে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম উপহার হিসেবে গ্রহণ করায় অসন্তুষ্ট হয়েছে চীন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেলিফোন করে চীনের অসন্তোষের কথা ব্যক্ত করে চীন দূতাবাস জানিয়েছে, এটা বাংলাদেশের ঘোষিত এক চীন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আজ এ প্রসংগে ঢাকায় প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ হয়েছে। ড. এ কে আব্দুল মোমেন  বলেছেন, আমরা চীনকে আশ্বস্ত করেছি যে, বাংলাদেশ এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি। করোনা মোকাবিলায় এসব চিকিৎসা সামগ্রী উপহার হিসেবে এসেছে। অন্য কিছু নয়। চীন আমাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট। এখানে তাইওয়ানের সঙ্গে আলাদা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের কোনো বিষয় নেই।

সম্প্রতি তাইওয়ান এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এন-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস শিল্ড, পিপিই, গগলস, দুই সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। এসব সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন। এরপরই চীনা দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে টেলিফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার জানিয়েছেন, আমরা মানবিক সহায়তা নিয়েছি, অন্য কিছু নয়। কয়েক মাস আগে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পন্য  উৎপাদনকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন তাইওয়ানে তৈরি চিকিৎসা সামগ্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উপহার হিসেবে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তখন দেশে করোনার প্রকোপ বেশি ছিল এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন ছিল। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব সামগ্রী এসে পৌঁছে। এটা সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তা। এখানে তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো ব্যাবসায়িক সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে চীন বরাবরই স্পর্শকাতর। ১৯৭৫ সালের ৪ই অক্টোবর, বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৮ সালে তাইওয়ান সরকার ঢাকায় তাদের "তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস  প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি লাভ করে। চীন এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ ও আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে সেই কনস্যুলেট অফিসটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঢাকায় তাইওয়ানের একটি বাণিজ্যবিষয়ক অফিস চালু হয়। পরে ২০০৯ সালের ৩০শে জুন সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

তাইওয়ানের অফিসটি বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে বাংলাদেশ বিষয়ক সকল কিছু যৌথভাবে নিউ দিল্লিতে অবস্থিত তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার ইন ইন্ডিয়া এবং ব্যাংককে অবস্থিত তাইপেই ইকোনোমিক অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার ইন থাইল্যান্ড দ্বারা পরিচালিত হয়।

২০০৪ সালে ঢাকা তাইওয়ানের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অফিস খেলার জের ধরে বিএনপি সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেময়কার চীনা রাষ্ট্রদূতকে বেজংই ডেকে পাঠায় এবং পরে প্রত্যাহার করে নেয়।  আর বাংলাদেশ সরকার তৎকালিন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে  অপসারন করে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবার চেষ্টা করে। সে ঘটনা থেকেই  বিএনপির সাথে চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। যা আজ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে পারে নি বিএনপি।

বর্তমান ভিসা নীতি অনুযায়ী তাইওয়ানের নাগরিকদের বাংলাদেশে অন এরাইভাল ভিসা দেওয়া হয়, তবে তাইওয়ানের ভিসা নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের নিউ দিল্লি বা ব্যাংকক থেকে ভিসা নিতে হয়।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/এমবিএ/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।