ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দাবি এবং ধর্ষিতাদের পাশে থাকার ঘোষণা ছাত্রলীগের
-
ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার ঢাবি ক্যাম্পাসে সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ
ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ। সারা দেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা ধর্ষিতাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।
আজ (শুক্রবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেফতারসহ সারা দেশে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগ।
সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘নুরু গংদের দ্বারা শুরু হওয়া ধর্ষণ সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা সজাগ থাকুন, পাহারা দিন। কোথাও কোনো ইভ টিজিং ও ধর্ষণের ঘটনা যেন আর না ঘটে।’
ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘তথাকথিত ছাত্র অধিকার পরিষদ বর্তমানে ধর্ষণ পরিষদে পরিণত হয়েছে। সেই পরিষদের নুরু গংরা আমার বোনকে ধর্ষণ করে আবার লাইভ প্রোগ্রামে পতিতা বানায়। যেখানে পাবেন এই নুরু গংদের প্রতিহত করুন। আমাদের বোন ফাতেমার পাশে ছাত্রলীগ থাকবে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফাতেমার পাশে থাকবে।’
ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে দিয়ে যে ধর্ষণ শুরু হয়ছে সেটা আজ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। বাকি সবাই গ্রেপ্তার হলেও মামুন-নুরদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসন তাদের কেন ভয় পায়? অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করুন। তাদের গ্রেপ্তার করলে সারা দেশের ধর্ষকরা ভয় পাবে। ছাত্রলীগের কর্মীদের প্ৰতি আমাদের নির্দেশ থাকল- আপনাদের আশপাশে যদি কোনো নারীকে কোনোরকম নির্যাতন করা হয় আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
সমাবেশে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে একটি দল নানান অপচেষ্টা করছে, শাহবাগে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। শেখ হাসিনার ছবি পুড়াচ্ছে। আরেকবার যদি শেখ হাসিনাকে নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানো হয়, শাহবাগের ওইসব আন্দোলনকারীকে পিষে ফেলব। কোনো প্রশাসন, মিডিয়াকে আমরা ভয় পাই না। আমরা জনগণের রাজনীতি করি, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি করি।’
ছাত্রলীগ সব অন্ধকারের আলো হয়ে থাকবে উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আলো হয়ে থাকবে। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। আপনারা জানেন, সারা বাংলাদেশে কিছুদিনের মধ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সরকার প্রত্যেকটির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা বলতে চাই, ধর্ষণের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার এবং বিচার করতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, মহানগর উত্তর সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন, দক্ষিণের সভাপতি মো. মেহেদী। এ সময় কেন্দ্রীয়, ঢাবি ও বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/এআর/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।