পুলিশি নির্যাতনে বরিশালে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ!
জনগণের অধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারদায় ৩৭তম বিসিএস-পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশের মানুষের জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
বঙ্গবন্ধুর চিন্তার বাস্তবায়ন করতে হলে পুলিশ বাহিনীর অনেক দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি আশা করি এই দায়িত্বটা তোমরা পালন করবে। তোমরা যে জ্ঞান অর্জন করেছ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছ, তোমাদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে চলতে হবে। সবসময় দেশের মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে। মানুষের সেবা করাটাই তোমাদের কর্তব্য। সেটা মনে রাখতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, অসহায়, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এ ক্ষেত্রে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করতে চাই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘মনে রাখবেন, আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। আপনারা জানেন, অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন।”
‘পুলিশ বাহিনীকে তিনি এই আহ্বানটি করেছিলেন যে, পুলিশকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। আর মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারলে, আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে মানুষকে সাথে নিয়েই এদেশে যেকোনো অপরাধ দমন করা যাবে। কাজেই সেভাবেই নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে,’ বলেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং সম্ভ্রম-হারানো মা-বোনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পদক দেন। এ সময় রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী প্রান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশি নির্যাতনে বরিশালে এক যুবকের মৃত্যু ঘটার অভিযোগ!
বরিশাল নগরীতে পুলিশি নির্যাতনে রেজাউল করিম (৩০ নামক এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেজাউল করিম আইন কলেজ থেকে গতবছর এলএলবি (পাস) ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ ঘটনায় রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ছে।
রেজাউল করিমের বাবা মো. ইউনুস মুন্সির অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন তার ছেলে রেজাউল করিম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান। পরে তিনি জানান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং চার পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।
ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেজাউল করিমকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করেন এসআই মো. মহিউদ্দিন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
মো. ইউনুস মুন্সি বলেন, ‘এসআই মহিউদ্দিন ধরে নেয়ার সময় রেজাউল সুস্থ ছিলেন। তার শরীরে মারা যাওয়ার মতো কঠিন কোনো রোগ ছিল না। তবে শুক্রবার আদালতের সোপর্দের সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিল। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছিলেন না। আদালতের নির্দেশে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে রেজাউলের মৃত্যু হয়।’
ইউনুস মুন্সির অভিযোগ, নির্যাতনের কারণেই ছেলে রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, ‘১ জানুয়ারি রেজাউল করিম নামের ওই হাজতি আসামিকে কারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার হাজতি পরোয়ানায় বাম পায়ে একটি পুরাতন জখমের কথা উল্লেখ ছিল। হস্তান্তরের পর প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাতেই তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।’
মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) নরেশ কর্মকার জানান, পুলিশ হেফাজতে রেজাউল করিমকে নির্যাতন দূরের কথা, তার সঙ্গে কেউ দুর্ব্যবহারও করেননি।
তিনি বলেন, ‘রেজাউল করিম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। গত আগস্ট মাসেও ১৬০ পিস নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশনসহ তাকে আটক করা হয়। ২০১৯ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছিল। তিনি নিজেও নেশাজাতীয় ইনজেকশন পুশ করে নেশা করতেন। এ কারণে তার বাম পায়ের ওপরের অংশে একটি ক্ষত ছিল। ওই ক্ষততে ইনফেকশন হয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, হাজতি রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। #
পার্সটুডে/এআরকে/এমএএইচ/৩