খালেদা জিয়ার কারাবাসের ৩ বছর: বিদেশে চিকিৎসা ও জামিনের মেয়াদ বাড়াতে তৎপরতা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারাপরসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের তিন বছর পূর্তি আজ (৮ ফেব্রুয়ারি)। দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেগম জিয়া গত বছরের ২৫ মার্চ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও শর্তসাপেক্ষে তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
এদিকে, তার মুক্তির দাবিতে আজ ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
অপরদিকে, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ও তার জামিনের মেয়াদ বাড়াতে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
আগামী ২৬ মার্চ জামিনের মেয়াদ শেষ হবার আগেই তা আর এক দফা বাড়াতে আবেদন করবে পরিবার। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ চার আইনজীবী খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর একটি খসড়া আবেদন তৈরি করেছেন।
এছাড়া, চলতি সপ্তাহেই সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদনও করা হবে। তবে এসব বিষয়ে দলের নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, দলীয় প্রধানের বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত তার পরিবারের। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে, এরপর এটিতে আইন মন্ত্রণালয় মতামত দেবে। মুক্তি দেয়ার বিষয়টি সরকারের এখতিয়ার। সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার অনুমতি দেয়া হতে পারে।’
এদিকে, সরকার ও পরিবারের সমঝোতার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এসকান্দার ব্রিটিশ হাইকমিশনে তার এবং বোন খালেদা জিয়ার পাসপোর্টসহ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে কূটনৈতিক মহলও এ নিয়ে বেশ উদ্যোগী হয়।
শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত
খালেদা জিয়ার শরীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পুরোনো অস্টিও আর্থাইটিস, ডায়াবেটিসসহ অন্য সব রোগই আগের চেয়ে বেড়েছে। একা চলাফেরা করতে পারেন না। জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা কমেনি। এ ছাড়া তার মেরুদণ্ড, বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে শক্ত হয়ে যায়। দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। তিনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান। বাম চোখেও বেশ সমস্যা রয়েছে তার। সার্বিকভাবে চিকিৎসা তদারকি করছেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। বাসায় দুজন নার্স সার্বক্ষণিকভাবে রাখা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদলের সিনিয়র সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা আগের মতোই। ডায়াবেটিস এখনো ওঠানামা করে। আগে জয়েন্টে জয়েন্টে যে ব্যথা ছিল সেগুলো এখনো আছে। তিনি আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারেন না।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।