বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের এক বছর: চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i88392-বাংলাদেশে_করোনাভাইরাসের_এক_বছর_চিকিৎসা_এবং_ব্যবস্থাপনা_নিয়ে_বিভিন্ন_মহলের_মিশ্র_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ আজ (৮ মার্চ) করোনা মহামারির এক বছর পার করেছে। গত বছরের ঠিক এই দিনে দেশে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৮ মার্চ প্রথম তিনজন করোনা শনাক্ত রোগীর মধ্যে দুজন ছিলেন পুরুষ, একজন নারী। এদের দুজন ছিলেন ইতালি ফেরত। বাকি একজন ছিলেন তাদের একজনের পরিবারের সদস্য।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ০৮, ২০২১ ১৩:৩০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ আজ (৮ মার্চ) করোনা মহামারির এক বছর পার করেছে। গত বছরের ঠিক এই দিনে দেশে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৮ মার্চ প্রথম তিনজন করোনা শনাক্ত রোগীর মধ্যে দুজন ছিলেন পুরুষ, একজন নারী। এদের দুজন ছিলেন ইতালি ফেরত। বাকি একজন ছিলেন তাদের একজনের পরিবারের সদস্য।

এর  ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানায় অধিদফতর। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই জনমনে যে ক্ষোভ ছিল, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সেটা আরও জোরালো হয়। উঠে আসে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির নানা চিত্রও। শুরুতে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করে। যার কারণে দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নতুন অভিজ্ঞতাঃ  লকডাউন

প্রথম রোগী শনাক্তের ৩৯তম দিনে গতবছরের ১৬ এপ্রিল সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে পুরো দেশকে করোনাভাইরাসের জন্য ঝূঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গত বছর মার্চের শেষ দিকে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। সরকারিভাবে একে বলা হয় সাধারণ ছুটি। কয়েকদফায় বাড়ানো হয় এ ছুটি। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয় ১৭ মার্চ থেকে। ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষনা হয়  অফিস-আদালতও। দেশজুড়ে সব ধরনের যান চলাচলে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। সবাইকে যার যার বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোটি কোটি মানুষ হয়ে পড়ে ঘরবন্দি, কর্মহীন। এর ঠিক এক মাস পর ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়। সংক্রমণের দশম সপ্তাহে (১০ থেকে ১৬ মে) দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি শুরু হয়।

৬৬ দিন পর ৩১ মে থেকে অফিস খোলার পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হয়। শিথিল করা হয় বিধিনিষেধ। চালু হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। আগস্টে খুলে দেওয়া হয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোও।

চিকিৎসা ব্যাবস্থা নিয়ে যত ক্ষোভ

শুরুর দিকে চিকিৎসকদের দেওয়া নিম্নমানের পিপিই, সুরক্ষা উপকরণ কেনাকাটায় দুর্নীতি,অনুমোদনহীন হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা আর ভূয়া টেস্ট রিপোর্টের কেলেঙ্কারি ধরা পরে। হাসপাতাল অব্যাবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল প্রতিদিনের খবর।

শুরুতে সংকট ছিল ভেন্টিলেটর, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম, অক্সিজেন সিলিন্ডার, আইসিইউ শয্যাসহ জরুরি সব চিকিৎসা সামগ্রীর। যদিও ধীরে ধীরে এসব সংকট কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে করোনার জন্য বিশেষায়িত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ায় জেনারেল জমির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন করোনা চিকিৎসা ব্যাবস্থাপনা অনেক উন্নত ও সহজ হয়েছে। একই রকম মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার মোস্তফা আজিজ।

গতবছরের ৮ মার্চ থেকে শুরু করে গতকাল রবিবার (৭ মার্চ, ২০২১) পর্যন্ত দেশে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ শতাংশ পুরুষ, ২৯ শতাংশ নারী। অন্যদিকে করোনায় মারা গেছেন ৮ হাজার ৪৬২ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ, নারী ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ইতোমধ্যে টিকা গ্রহন করেছেন  ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৪ শতাংশ, নারী ৩৬ শতাংশ।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনায় মোকাবেলায় বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে অনেক এগিয়ে থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ, ব্লুমবার্গসহ অনেকে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। তবে ‘করোনার টিকা গ্রহণ করা মানেই করোনামুক্ত নয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দেশে আবারো করোনার সংক্রমণের হার বাড়ছে।

রবিবার (৭ মার্চ) দুপুরে পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদপ্তরে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন বছরে আমরা সবার ভ্যাক্সিনেশন নিশ্চিত করতে চাই, এজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে।"

পার্সটুডে/আব্দুুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।