করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i89590-করোনার_দ্বিতীয়_ঢেউ_সামলাতে_সবাইকে_এগিয়ে_আসার_আহ্বান_প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একটু কষ্ট হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষের সমস্যা হবে। তারপরও জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানো সবার করণীয়।’
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
এপ্রিল ০৪, ২০২১ ১২:২০ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একটু কষ্ট হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষের সমস্যা হবে। তারপরও জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানো সবার করণীয়।’

আজ রোববার দুপুরে একাদশ সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ খুব বেশি বেড়ে গিয়েছিল। এখনো বাড়ছে। সে কারণে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে মানতে হবে। বিয়েশাদিসহ সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সবাইকে গরম পানির ভাপ নিতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এবারের ভাইরাসটি কতটুকু খারাপ করল, চট করে তা বোঝা যায় না। পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি হঠাৎ খারাপ হয়েছে। তাই সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, তরুণ ও শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদেশ থেকে যাত্রী এলে তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। এক সপ্তাহ অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করা যাবে। সব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা দিয়েছি। সেগুলো মানলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

ইতোমধ্যে,  আজ রোববার সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে,  আগামীকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১১টা পর্যন্ত চলাচল ও কাজে নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে । এ সময় শুধু জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের গণপরিবহন (সড়ক, রেল, নৌ, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে উৎপাদন ও সেবায় নিয়োজিত গণপরিবহনের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। বিদেশি ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি সেবাকাজে (গ্যাস, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট) নিয়োজিত ব্যক্তিরা কাজ করবেন। তাঁদের নিয়ে পরিবহন চলাচল করতে পারবে।

সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস, আদালত ও বেসরকারি অফিস শুধু জরুরি কাজ করবে। এদের নিজস্ব পরিবহন চলবে। শিল্পকারখানা ও নির্মাণকাজ চলবে। শিল্পকারখানার শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল করতে হবে।

সরকারী নির্দেয়াশনা অনুযায়ী,  ঘোষিত সময়ের মধ্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি কাজ (ওষুধ কেনা, দাফন, সৎকার, নিত্যপণ্য কেনা) ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। খাবারের দোকান থেকে খাবার কিনে আনা যাবে। দোকানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা যাবে না। শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করা যাবে। কাঁচাবাজার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ব্যাংকিং–ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সীমিত পরিসরে ফিল্ড হাসপাতাল পরিচালনা করবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।