খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত- আইসিডিডিআরবি: জানে না দল-পরিবার
-
বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। আজ রোববার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে নিশ্চিত করেছে আইসিডিডিআরবি।
করোনা পরীক্ষার ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইসিডিডিআরবি ল্যাবরেটরিতে ১০ তারিখ তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা হয়। এরপর আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন এমন খবর সঠিক নয়।
আজ (রোববার) চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ম্যাডামের করোনা পরীক্ষা করানো হয়নি। আপনারা যে রিপোর্টটি পেয়েছেন সেটি সঠিক নয়। ওই রিপোর্টে যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও সঠিক নয়।
এর আগে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার নমুনা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রচারিত হলেও তা অস্বীকার করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ভাগ্নে ডা. মামুন।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে ল্যাবএইডের টেকনোলজিস্ট মো. সবুজ তার বাসায় প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডা. মামুনও বাসায় যান। এ সময় তার উপস্থিতিতে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে প্রচারিত হয়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তার ভাগ্নে ডা. মামুন জানান, এমন ঘটনার কোনো সত্যতা নেই। আমিই তার রেগুলার চেকআপ করি। রেগুলার চেকাপের অংশ হিসেবে ব্লাড টেস্ট করতে হয়। এটার জন্য তার ব্লাড নিতেই টেকনেশিয়ান নিয়ে ফিরোজায় গিয়েছিলাম। এটা কোনো করোনা পরীক্ষার অংশ না। খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার খবর নিতান্তই বিভ্রান্তিমূলক।
খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামও বলেন, তার করোনা টেস্টের জন্য নমুনা নেওয়া হয়নি।
তবে আজ দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা শেষে তার কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার যান খালেদা জিয়া। পরে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে গত বছরের ২৫ মার্চ মুক্তি দেওয়া হয় তাকে। এরপর আরও দুবার ছয় মাস করে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক বাদে অন্য কেউ দেখা করতে পারেন না।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।