বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i90288-বাঁশখালী_কয়লা_বিদ্যুৎকেন্দ্রে_শ্রমিক_পুলিশ_সংঘর্ষের_ঘটনায়_দুই_মামলা
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় ‘এস এস পাওয়ার প্লান্টে’ বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দু'টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পাওয়ার প্লান্টে হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আর সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে অন্য মামলাটি দায়ের করেছে পুলিশ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ১৮, ২০২১ ১১:২৬ Asia/Dhaka
  • বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলা

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় ‘এস এস পাওয়ার প্লান্টে’ বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দু'টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পাওয়ার প্লান্টে হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আর সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে অন্য মামলাটি দায়ের করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফিউল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার রাতে দায়েরকৃত দুটি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল (শনিবার) সকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে মোট পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন কমপক্ষে ২৫ জন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, শ্রমিকরা গতকাল সকালে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে গিয়ে সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে।

কিন্তু শ্রমিকরা দাবি করেছেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি করেছে। একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের রমজানে ইফতারের সময় দেয়া হয় না। আমরা বলেছি আমাদেরকে নামাজ, ইফতার ও রোজার ছুটি দিতে হবে। এসব দাবি না মেনে পুলিশকে দিয়ে আমাদের আন্দোলনে গুলি চালানো হয়েছে।’

আহতদের হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

আহত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের বেশ কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বেতন দেয়া হচ্ছিল না। সেই সঙ্গে তারা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রোজার মাসে ইফতারের ছুটি দিয়ে কাজের সময় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন তারা, তাও মানা হচ্ছিল না। এছাড়াও শ্রমিকদের অভিযোগ সেখানে পানি ও টয়লেটের সংকট রয়েছে। আট ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ ঘণ্টা কাজে বাধ্য করা হয়। তাদের সাথে সবসময় খারাপ ব্যবহার করা হয়। এনিয়ে তারা ১১ দফা লিখিত দাবি দিয়েছিল। শুক্রবারও তাদের কাজ করতে হয়। এ নিয়ে শুক্রবার তারা বিক্ষোভ করেন। শনিবার সকালে তারা আবার বিক্ষোভ করলে তা দমনে গুলি চালানো হয়।

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা দু'টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

উল্লেখ্য, দেশের বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তা এস আলম গ্রুপ চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে শুরু থেকেই স্থানীয়রা এর বিরোধিতা করে আসছেন।

২০১৬ সালের এপ্রিলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের রিরোধিতা করে স্থানীয়রা আন্দোলন করলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন।

২০২২ সাল নাগাদ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার কথা। এই প্রকল্পে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানে ৩০ ভাগ বিনিয়োগ রয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।