অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ গুদামজাতকারীদের শাস্তি দিতে হবে: পবা চেয়ারম্যান
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i90654-অবৈধভাবে_দাহ্য_পদার্থ_গুদামজাতকারীদের_শাস্তি_দিতে_হবে_পবা_চেয়ারম্যান
বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ নাম শাফায়াত (৩৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে আজ সকালে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২৫, ২০২১ ১২:২৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ নাম শাফায়াত (৩৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে আজ সকালে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ৭টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাফায়াত। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো ১৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন তিনজন। 

পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগা ভবনের নিচতলার বিপণিবিতানে ১৬ থেকে ২০টি দোকান রয়েছে। তাদের ধারণা, এসব দোকানে রাসায়নিক কেনাবেচা হতো। কোনো একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ঢাকার নিমতলী রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুনে  প্রাণ ও সম্পদহানির পর পর গঠিত তদন্ত কমিটির বিশেষজ্ঞরা যে ১৭টি সুপারিশ পেশ করেছিলেন, সেগুলোর প্রথমেই ছিল বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের গুদাম ও কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার। এর পর ২০১৯ সালে  চকবাজারে অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন নাগরিক এবং পরিবেশবাদীরা। 

আরমানিটোলায় কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর বাইরে নিরাপদ এলাকায় আলাদাভাবে রাসায়নিক পল্লি স্থাপন এবং ঘনবসতিপুর্ণ এলাকার বাইরে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা বছরের পর ধরেই চলছে। সমাধান আলোর মুখ দেখেনি আজ পর্যন্ত। 

এ প্রসঙ্গে ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, উপযুক্ত নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এবং  সরকারের নির্দেশনাবলী অমান্য করে যারাই এসব দাহ্য ও বিস্ফোরক কেমিক্যাল গুদামজাত করছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই  সাথে এসব দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিতসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

তিনি দাবি করেন, এসব কেমিক্যালের গুদামজাতকরণ, পরিবহন ও বিপননের কাজে দক্ষ কেমিস্ট নিয়োগ করতে হবে, অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাছাড়া নগরীর ঘনবসতিপুর্ন এলাকায় জলাধার ও হাইড্রান্ট স্থাপন করতে এবং সরু অলি-গলিতে অগ্নি নির্বাপনের উপযোগী যন্ত্রপাতি ব্যবস্থা করার দাবি করেন আবু নাসের খান। 

এদিকে, পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরমানিটোলার আশেপাশে এমন আরও অনেক আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে রাসায়নিক পদার্থের দোকান এবং গুদাম রয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন কিংবা অন্যান্য সরকারি সংস্থার এসবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান করে না। ফলে কিছু দিন পরপরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে পুরান ঢাকা থেকে এসব রাসায়নিক পদার্থের গুদাম সরিয়ে নিতে হবে।

সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক নুরুল হাসান আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় রাসায়নিক গুদামজাত করার বৈধতা আছে কি-না, আগুন লাগল কিভাবে, এর দায় কার- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।