বাংলাদেশে করোনায় আরও ৭৭ জনের মৃত্যু, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ল
বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৩০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও দুই হাজার ৯৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছে।
আজ (বুধবার) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের নয়জন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগের সাতজন, বরিশাল বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে দুইজন, রংপুর বিভাগে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন। সরকারি হাসপাতালে ৪৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জন ও বাসায় একজন মারা গেছে।
এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮টি ল্যাবে ২৮ হাজার ২০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৮ হাজার ৪২৭টি। করোনা শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫০ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।
বিধি-নিষেধের সময়সীমা আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি
বাংলাদেশে করোনা বিস্তার রোধে চলমান বিধি-নিষেধের সময়সীমা আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
বিধিনিষেধ চলাকালে গণপরিবহন, অফিস বন্ধ থাকবে। তবে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনা ভাইরাজজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বের সকল বিধি-নিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় কিছু নতুন শর্ত সংযুক্ত করে বুধবার (২৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিধি-নিষেধ আরোপের সময় বর্ধিত করা হলো।
এ সময়, স্থল, নৌ ও বিমানযোগে যে কোনো ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে পণ্য পরিবহন চালু থাকবে।
শুধুমাত্র ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বাংলাদেশিরা ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতি/অনাপত্তি ছাড়পত্র গ্রহণ সাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে প্রবেশকারীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে অনুসরণের জনা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ধণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভ্যাকসিন নেওয়ার সনদসহ নন-কোভিড-১৯ সনদধারী যাত্রীরা নিজ বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের সংশ্লিষ্ট থানাকে আগমন ও কোয়ারেস্টিনের বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
উল্লিখিত দেশ থেকে আগত শুধুমাত্র নন-কোভিড-১৯ সনদধারীরা সরকার নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় থাকবেন। ৩-৫ দিনের মধ্যে চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা করে সম্মতি দিলে তারা স্ব স্ব বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তবে সে ক্ষেত্রেও তাদের স্ব স্ব থানাকে অবহিত করতে হবে।
অন্যান্য দেশ থেকে আগত যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ ব্যয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে দিন থেকে দেশে জরুরি সেবা, ব্যাংক ও গার্মেন্টস কারখানা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে সব গণপরিবহন।
এর আগে, করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১৩ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে শপিংমল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে গণপরিবহন ও দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন