আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের ডাক: আপনজনদের ফিরে পেতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মায়ের ডাক নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে প্রিয় সন্তান, পিতা আর ভাইয়ের গুম এবং হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন তাদের স্বজনেরা।
অনুষ্ঠানে নিখোঁজ রাজনৈতিক কর্মী মনির হোসেনের ভাই শহীদ হোসেন আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন প্রতিবাদী যুবকদের গুম-হত্যা করা হচ্ছে নিজেদের ক্ষমতা পাকা-পোক্ত করার জন্য। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ ২০০২ থেকে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এই আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম-প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে
গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার তাগিদ
জাতীয় প্রেসক্লাবে মায়ের ডাক আয়োজির আজকের সভায় নিখোঁজ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এসেছিলেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন এবং বিচার বহির্ভুত হত্যা বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা এসব বেআইনি কর্মকান্ডের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে আসে, গুম কারা করে। এই গুম সরকারি বাহিনী করেছে, সরকার করেছে-এটা বিশ্বাস করার বহু কারণ রয়েছে। যদি গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সরকারি বাহিনী না করে থাকে, তাহলে যাঁরা গুম হয়েছেন, তাঁদের খুঁজে বের করছেন না কেন। কেউ কেউ তো গুম হয়েছেন ১০–১২ বছর হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, কেন খুঁজে বের করা হচ্ছে না নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায়। কারা জড়িত, তাঁদের বের করা হচ্ছে না। এমনকি এ ব্যাপারে মামলা করতে গেলে সেটা গ্রহণ করতে চান না। নিজেরা না করে থাকলে মামলা গ্রহণ করার কথা। যখন অপরাধ আপনি নিজে করবেন, তখন মামলা নিতে চাইবেন না সেটাই স্বাভাবিক।
এর আগে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল এক বিবৃতিতে দেশে গুম-অপহরণ বন্ধে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিষ্ঠা ও সব নাগরিকের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
গুমের মতো ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সেগুলো হলো: গুমের অভিযোগগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করা; নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ চায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখনো ৮৬ জন নাগরিক গুম হয়ে আছেন।
জুলাই ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মোট ১১৫টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউ “ডিকেড অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি ১৬ আগস্ট প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে গুমের জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, গুম বন্ধ করা ও ভবিষ্যতে নির্যাতন প্রতিরোধের নিশ্চয়তা আদায়ে জাতিসংঘ, দাতাগোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।