বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান
বেসরকারি দালাল ধরার অভিযানে র্যাব, সরকারি দুর্নীতিবাজদের জন্য কেবল নসিহত
সরকারি হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস বা বিআরটিএ’র মত সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানে দ্রুত বা অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দেবার নামে সক্রিয় প্রতারক বা দালাল চক্র ধরতে অভিযানে নেমেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১৫টি দল।
আজ রোববার(৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে একযোগে দেশব্যাপী এমন ‘দালাল বিরোধী’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাবের এই অভিযানে প্রতিটি দলের সঙ্গেই ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে দালালির অভিযোগে ৩৬ জন এবং পাসপোর্ট অফিসে দালালির অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করেছে র্যাব-১০। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিআরটিএ ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় একযোগে অভিযান শুরু করে র্যাব-১০ এর পৃথক দল।
এ ছাড়া, রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল ধরতে অভিযান চালায় র্যাব-৩। এ সময় ৩০ জন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে দালাল চক্রের সক্রিয় ১৩ সদস্যকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন র্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ওদিকে, নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দালাল ও প্রতারক চক্রের ২১ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-৭।
তবে সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন, সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বেসরকারি দালাল চক্র গ্রেপ্তার করে বাহবা পাবার একটা উৎসাহ দেখা গেলেও সরকারি অফিসের ভেতরে থাকা দুর্নিতীবাজদের কেবল নসিহত করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গতকালই বলেছেন, হারাম কিছু খেলে নামাজ হবে না, ঘুস খেলে নামাজ হবে না। শুধু তাই নয়, হারাম টাকায় কেনা কোনো পোশাক যদি অন্য পোশাক স্পর্শ করে তবে নাপাক হয়ে যাবে। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন বিষয়ক ওই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
প্রকল্প পরিচালকদের উদ্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, আমি যতদূর জানি নিয়ম-কানুন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তারপরও আইনের মধ্যে থেকে অনেক কিছু করা হয়, আমি খবর রাখি। এখন আরও খোঁজ-খবর রাখব। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে রেহাই নেই। আপনারা প্রকৌশলী, আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, আমিও হাফ প্রকৌশলী। সরকার আমাদের বেতন অনেক বাড়িয়েছে। তারপরও কেউ চুরি করে ধরা পড়লে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে।
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচিবদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন । সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও পয়েন্টআউট করেছেন এগুলো সচিবদের দায়িত্ব। কারণ, সচিবরাই এর প্রিন্সিপাল অফিসার। সুতরাং, যদি ইমমর্যাল প্র্যাকটিস হয়, মিসইউজ হয়, অবহেলা হয় তাহলে সেগুলো প্রত্যেক সচিবকেই দেখতে হবে।’#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।