দেশ বিক্রি করে আমি ক্ষমতায় আসব না, এটাই বাস্তব: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i98690-দেশ_বিক্রি_করে_আমি_ক্ষমতায়_আসব_না_এটাই_বাস্তব_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটাই বাস্তব।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
অক্টোবর ১৬, ২০২১ ০৮:৪৩ Asia/Dhaka
  • শেখ হাসিনা
    শেখ হাসিনা

বাংলাদেশেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটাই বাস্তব।

আজ (শনিবার) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশী দেশ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। কারণ আমার নিজের দেশের সম্পদ আমি অন্যের কাছে বিক্রি করার আগে আমার কথা ছিল আগে দেশের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ হবে, পঞ্চাশ বছরের মজুদ থাকবে। তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এ কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু দেশ বেঁচে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটা হলো বাস্তব।”

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আমাদের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারি শুরুর দিকেই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। সারাবিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেনো খাদ্যের অভাবে আর কখনও না ভুগি। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই মঙ্গা মুক্ত হয়, মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনও যেন আর দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

এ সময় কৃষিজমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষিজমি কোনও মতেই যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়; আমরা উৎপাদন করবো, উন্নয়ন করে যাবো। তবে সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করেই করতে হবে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণার কথা উল্লেখ করে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা নিজেরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে ১২ বছরে কৃষি উন্নয়নে কৃষিবান্ধব ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/ আব্দুর রহমান খান/ ১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।