জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধন
ট্রেনের ভাড়া আপাতত বাড়ছে না: বাস ভাড়ার নৈরাজ্য ঠেকাতে ভ্রাম্যমান আদালত
বাংলাদেশে সম্প্রতি ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস ভাড়া ও অন্যান্য পরিবহনের খরচ বাড়লেও আপাতত রেলের যাত্রী বা পণ্য পরিবহনে মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছেনা বলে আশ্বস্ত করেছেন সরকারের রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি পুনরায় চালু করার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মন্ত্রী। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে রেল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, টিকেটের মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে যদি সার্বিকভাবে এ ধরনের কোনো চিন্তা-ভাবনা করা হয়, তখন সেটা বিবেচনা করা যাবে।
জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধন
অপরদিকে, জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আজকেও (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর শাখা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার একবিংশ শতাব্দিতে এসে তুঘলকি শাসন কায়েম করছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য যখন কম ছিল তখন দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য কমেনি। সরকার নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশে ২৭ শতাংশ গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করছে। এ ধরনের অবিবেচক সিদ্ধান্তের ফলে কৃষক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত নাগরিকেরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রতিটি সেক্টরে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে। করোনাকালে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। পরিবারের খরচ যোগাতে অধিকাংশ মানুষ হিমসিম খাচ্ছে। এমন নাজুক মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপন কঠিনতর হচ্ছে। অসহায় জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ দ্রুত তেলের মূল্য হ্রাসের দাবি এবং পরিবহন সেক্টরে লাগামহীন নৈরাজ্যে বন্ধের জোর দাবি জানান।
ভাড়া নিয়ে বিশৃংখলা ঠেকাতে মাঠে ভ্রাম্যমান আদালত
এদিকে, বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা এবং ভাড়া নিয়ে যাত্রী হয়রানী বন্ধ করতে আজ (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর আটটি এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি ভাড়া আদায় ও গাড়ীতে ভারার তালিকা না রাখার অভিযোগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সিটি সার্ভিসের নয়টি বাসকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ সময় বিআরটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ রুটের অনেক বাসের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাড়া বেশি নিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে আমরা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছি।’ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে শৃঙ্খলা না ফেরা পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। যারা বাড়তি ভাড়া আদায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় সিএনজি চালিত এবং ডিজেল চালিত বাসগুলোকে সনাক্ত করতে বিআরটিএ ও বাস মালিকদের পক্ষ থেকে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।