মাদুরো অপহরণের পর ভেনেজুয়েলায় ঐক্যের বার্তা: দেলসি রদ্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
-
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেস
মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার দুই দিন পর ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দিয়েছে।
গতকাল (সোমবার) জাতীয় পরিষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেলসি রদ্রিগেজ শপথ নেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার সব জনগণের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। রদ্রিগেস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জিম্মি থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অপহরণের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছেন। তাদেরকে তিনি 'আমাদের বীর' হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট মাদুরোকে অপহরণের ঘটনাকে তীব্রভাবে নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে। এই হামলা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
জাতীয় পরিষদের বাইরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মুক্তির দাবি জানান। তারা স্লোগান দেন, 'মাদুরো, দৃঢ় থাক, ভেনেজুয়েলা জেগে উঠছে'!
জাতীয় পরিষদের সদস্যরা দেলসি রদ্রিগেজকে সর্বসম্মত সমর্থন দেন। তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। একই সঙ্গে তার ভাই হোর্হে রোদ্রিগেসকে আবারও পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।
সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরু হলে আইনপ্রণেতারা মাদুরোর নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান “চলো নিকো!” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এই স্লোগানটি ছিল ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শ্লোগান।
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালায়। ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানানো হয়।
ভেনেজুয়েলার সিনিয়র আইনপ্রণেতা ফের্নান্দো সোটো রোহাস পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে পুরো বিশ্বের কৌঁসুলি, বিচারক ও পুলিশ মনে করেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—তিনি সফল হবেন না। আমাদের বৈধ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিজয়ীর বেশে মিরাফ্লোরেস প্রাসাদে ফিরে আসবেন।”
শনিবার ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরদিন রোববার দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন ঘোষণা করে।
হোর্হে রোদ্রিগেজ পুনরায় পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় এখন রোদ্রিগেস ভাই-বোন ভেনেজুয়েলার নির্বাহী ও আইনসভা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন।
সোমবার পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হোর্হে রোদ্রিগেজ বলেন, “আমার ভাই ও আমার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মোরোসকে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব আইনি পথ, সব কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করব।”
প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ছেলে এবং সংসদ সদস্য নিকোলাস মাদুরো গেরা, যিনি ‘নিকোলাসিতো’ নামে পরিচিত, তিনিও দেলসি রোদ্রিগেসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “আমার ওপর ভরসা রাখুন, আমার পরিবারের ওপর ভরসা রাখুন।”
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নীতিগত সংস্কার ও তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে দেলসি রদ্রিগেজের পরিণতি নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৬