জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী:
'নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিন'
-
জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান খেইল পিন্টো
পার্স-টুডে: ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান খেইল ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটক রাখার ঘটনাকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
ইভান খেইল অবিলম্বে একতরফা চাপ প্রয়োগের পদক্ষেপ বন্ধ করতে এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আল-মায়াদিন চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আরও জানিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬১ তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবে এবং উল্লেখ করেছেন যে, কারাকাস মাদুরো ও তার সহকারী, ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতিনিধিত্ব করে "একটি স্বাধীন, মুক্ত এবং শান্তিপ্রিয় দেশ" হিসেবে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবে।
খেইল মানবাধিকার ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের জন্য "মানবাধিকার মামলাগুলোর অপব্যবহার" এর সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে ভেনেজুয়েলার জনগণ একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং চাপের কারণে নিয়মিতভাবে আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক আক্রমণও এই একই কৌশলে পরিচালিত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৩ জানুয়ারি ঘটনার উল্লেখ করে বলেছেন যে, আমেরিকার আক্রমণ "জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন" ছিল এবং এটি ১০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অবৈধভাবে আটক করা।
তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ঘটনাগুলোর পরেও কারাকাস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সহযোগিতার চ্যানেলগুলো খোলা রাখবে এবং তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেবে।
নিউইয়র্কে আটক মাদুরোকে একটি মার্কিন আদালতে হাজির করা হয় মাদক চোরা-কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে। মাদুরো ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নির্দোষ এবং এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে যুদ্ধ-বন্দি।
মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই উল্লেখ করেছেন যে তিনি নিজে ভেনেজুয়েলার তেল-শিল্পের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছেন। মাদুরো অপহৃত হওয়ার আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খনি দখল করতে চায়।
খেইল তার কিউবান সমকক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজের সাথে মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে সাক্ষাৎ করার কথা জানিয়ে, দুই দেশের মধ্যে "ভ্রাতৃত্ব এবং সংহতির" সম্পর্কের ওপর, বিশেষ করে জাতির সার্বভৌমত্ব এবং জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।