ট্রাম্পের মিথ্যাচারের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
সম্ভাব্য আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দিতে ‘হিটলার যুগের’ প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন ট্রাম্প: ইরানের হুঁশিয়ারি
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্স-টুডে: ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তোলা দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে তিনি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনাকে ভেস্তে দিতে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন।
কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত গ্রীষ্মে চালানো অবৈধ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান ত্রিশ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং তার ভাষায় “সন্ত্রাসবাদের” বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়ে গেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এসব মন্তব্য একটি পরিকল্পিত ভ্রান্ত তথ্য প্রচার-অভিযানের অংশ।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরায়েলের বারবার তোলা অভিযোগগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মিথ্যা বর্ণনা নির্মাণের ওপর নির্ভরশীল।
বাকায়ি লিখেছেন, “পেশাদার মিথ্যাবাদীরা সত্যের ভ্রম তৈরি করতে দক্ষ''।
তিনি নাৎসি জার্মানির জোসেফ গোয়েবলসের নামে প্রচলিত একটি প্রোপাগান্ডা নীতির উদ্ধৃতি দেন—“একটি মিথ্যা বারবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়”—এবং যুক্তি দেন যে এখন এই কৌশলটি মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা পদ্ধতিগতভাবে ব্যবহার করছে।
বাকায়ি বলেছেন, “এই পদ্ধতি মার্কিন সরকার এবং তাদের ঘিরে থাকা যুদ্ধের মুনাফাখোর গোষ্ঠী, বিশেষ করে গণহত্যাকারী ইহুদিবাদী ইসরায়েল, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সমন্বিত ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং বিক্ষোভে হতাহতের বিষয়ে মিথ্যা দাবি পুনরাবৃত্তি করে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের ভিত্তি তৈরি করছে।
জানুয়ারির অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা
জানুয়ারির অস্থিরতায় ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে—ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তব সংখ্যার দশগুণ অতিরঞ্জন। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থা, কবরস্থান ও স্থানীয় হাসপাতালের সহায়তায় কয়েক দিনের অনুসন্ধানের পর প্রায় ৩,১০০ জন নিহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে নাম ও পরিচয় নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা এ সংখ্যার বিরোধিতার পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
বহু বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হঠাৎ ডলারের ঘাটতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে জানুয়ারির দাঙ্গা প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে শুরু হয়—যে অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা ছিল বলে পরে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্বীকার করেছেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটে সিআইএ ও মোসাদের অনুপ্রবেশকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক লোকজনকে হত্যা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর। এসব সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে প্রায় ২,৫০০ মানুষ নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৬০০ দাঙ্গাকারী নিহত হয়।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া আসে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক'লিবফের কাছ থেকে। বুধবার এক ভাষণে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নেয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। কালিবাফ বলেছেন, তিনি একবার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন, “ভুল তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করবেন না এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।”
তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ মিথ্যা দাবি করেছিল যে অস্থিরতার সময় মাশহাদ শহর দাঙ্গাকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। পাশাপাশি, ২ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা সন্ত্রাসবাদকে প্রকাশ্যে উৎসাহ যুগিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের এইসব প্রতিক্রিয়া এমন সময় এল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় এরি মধ্যে আলোচনা চলছে বলে খবর এসেছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।