ফটো ফিচার
রঙে-উৎসবে ঈদে গাদির: ছবিতে তেহরানের ১০ কিলোমিটারের মিলনমেলা
-
ছবিতে ঈদে গাদির উদযাপন
ঐতিহাসিক বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী তেহরানের ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পরিণত হয়েছিল এক অভূতপূর্ব উৎসবের নগরীতে।
ইমাম হোসেইন (আ.) স্কয়ার থেকে শুরু করে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ পথজুড়ে ছিল রঙের ছোঁয়া আর আনন্দের আবহ। বর্ণিল ব্যানার, নয়নকাড়া আলোকসজ্জা, ফেস্টুন আর রং-বেরঙের পতাকায় সেজেছিল পুরো এভিনিউ, যা উৎসবের রঙকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণ। রাস্তার দুই পাশে স্থাপিত হাজারো 'স্টল' থেকে দিনভর আগত ধর্মপ্রাণ ও উৎসবমুখর মানুষদের নানা উপায়ে আপ্যায়ন ও সেবা দিয়ে এই মিলনমেলাকে মুখরিত রাখা হয়।
শিশুদের জন্য তৈরি ভ্রাম্যমাণ থিম পার্ক, ইনফ্ল্যাটেবল স্লাইড এবং বল পুলের কলকাকলিতে পুরো রুট ছিল প্রাণবন্ত। পাশাপাশি বড়দের জন্য ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মঞ্চ, নাট্য পরিবেশনা ও বিশেষ প্রদর্শনী।
এবারের আলোর উৎসব ও আলোকচিত্র আয়োজনে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে "প্রজন্মের ফ্রেমে গাদিরের ছবি" শিরোনামের একটি কর্নার, যেখানে শিশু, যুবক ও প্রবীণদের আনন্দঘন ও রঙিন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে।
এছাড়া, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আগ্রাসনের শিকার লেবাননের মুসলিম জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে মেলায় বিশেষ সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ইরানিরা তাদের ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দেন।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
বিদায় হজের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় ফেরার পথে 'গাদির-এ-খুম' নামক স্থানে আল্লাহর নির্দেশে এক অভিষেকের মাধ্যমে হযরত আলী (আ.)-কে 'মুমিনদের নেতা' বা 'মাওলা' হিসেবে মনোনীত করেন। এহরাম পরা অবস্থায় সঙ্গে থাকা সোয়া লাখ সাহাবির সামনে তিনি এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। এর মাত্র ৮০ থেকে ৮৪ দিন পর আল্লাহর রাসূল (সা.) ওফাত লাভ করেন। ইরানে এই বেলায়েত বা নেতৃত্বের ঘোষণার দিনটিকেই প্রতিবছর অত্যন্ত মর্যাদার সাথে 'ঈদে গাদির' হিসেবে উদযাপন করা হয়।
ঈদে গাদির কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইরানি জনগণের ধর্মীয় আবেগ, জাতীয় সংহতি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের মূল চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার একটি অন্যতম বড় মাধ্যম। রাজধানী তেহরানের এই অভূতপূর্ব মিলনমেলা, লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ আবারও প্রমাণ করল—যুগ যুগ ধরে মাওলা আলী (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসার এই ধারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একইভাবে উজ্জ্বল, রঙিন ও জীবন্ত রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৫