হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160154-হরমুজ_প্রণালিতে_মার্কিন_সামরিক_হেলিকপ্টার_বিধ্বস্তের_কথা_স্বীকার_করলেন_ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-06-09T14:04:06+00:00 )
জুন ০৯, ২০২৬ ১৫:৪৬ Asia/Dhaka
  • মার্কিন AH-64 অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    মার্কিন AH-64 অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার পর, তেহরানের চূড়ান্ত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যেই এই খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করা হলো।

এর আগে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানায় যে, ওই দিন সকালেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কাছাকাছি এলাকায় একটি মার্কিন আকাশযান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে দৈনিকটি জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার আসল কারণ কী তা এখনও "অস্পষ্ট"।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে, নাকি এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়েছে, অথবা অন্য কোনো কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে—তা এখনও জানা যায়নি।

তবে আজ ভোরের দিকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাইলটরা ভালো আছেন’ এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। আমরা আগামীকাল এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছি।"

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের উস্কানিমূলক আগ্রাসনের জবাবে, ইরান অন্তত ১০০ বার সফলভাবে পাল্টা আঘাত হানে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।

শত্রুভাবাপন্ন দেশ এবং তাদের মিত্রদের জন্য ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পরই এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছিল। এরপর তেহরান এই প্রণালি পরিচালনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থাপনা তৈরি করে এবং অনধিকার প্রবেশকারী জলযানগুলোর মুখোমুখি হতে শুরু করে।

গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলমান সংঘর্ষের সময় যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান হারিয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার।

মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয়, ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড এবং সামরিক গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কংগ্রেসের জন্য তৈরি করা এই প্রতিবেদনে আকাশযানগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২.৬ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, এই ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, জ্বালানি রিফুয়েলিং বিমান, যুদ্ধকালীন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং ড্রোন রয়েছে।

ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আকাশযানগুলোর মধ্যে ছিল চারটি F-15E স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি F-35A লাইটনিং II, একটি A-10 থান্ডারবোল্ট II, সাতটি KC-135 স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং বিমান এবং একটি E-3 সেন্ট্রি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান।

এছাড়াও প্রতিবেদনে দুটি MC-130J কমান্ডো II বিমান, একটি HH-60W জলি গ্রিন II, ২৪টি MQ-9 রিপার ড্রোন এবং একটি MQ-4C ট্রাইটন ড্রোন হারানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৯