অরুণাচলে ১৫টি মসজিদ বন্ধ করল প্রশাসন, মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ
-
অরুণাচলে ১৫ টি মসজিদ সিল করার নির্দেশ, প্রতিবাদে সরব মুসলিম সংগঠনগুলো
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরের ১৫টি মসজিদ সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলো। একে একটি ‘সুপরিকল্পিত বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা।
আজ (শনিবার) কলকাতার দৈনিক ‘পূবের কলম’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ‘অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন’ (এপিআইওয়াইও) নামের একটি স্থানীয় সংগঠন এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ দাবি করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ‘বনধ’ বা হরতালের ডাক দেয়। এরপরই মসজিদগুলো সিল করার কঠোর পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একজন সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে জামা মসজিদসহ ইটানগর রাজধানী অঞ্চলের ১৫টি মসজিদ সিল করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। অল অরুণাচল প্রদেশ মসজিদ কল্যাণ কমিটি (এএপিএমডব্লিউসি) প্রশাসনকে অবিলম্বে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আইনের ‘পক্ষপাতমূলক’ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এএপিএমডব্লিউসি-র সদস্য গিয়াহ লিমপেহ সুলতান বলেন, প্রশাসন যদি মসজিদের বৈধতা ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে, তবে একই মানদণ্ড অন্য সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত। তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সম্পূর্ণ আইনি অনুমোদন ছাড়া রাজধানী অঞ্চলে আরও অনেক গির্জা, গুরুদ্বার, নামঘর ও মন্দির দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন কেবল মুসলিমদের উপাসনালয় লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই চাপ সৃষ্টি করছে।
কমিটির নেতারা স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা আইনের বিরুদ্ধে নন, তবে কেবল একটি সম্প্রদায়ের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র বিরোধী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আদিবাসী সংগঠনের সদস্যরা এর আগে খারিজি মাদ্রাসা নিয়েও আপত্তি তুলেছিল। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উপাসনালয়গুলোর অধিকাংশই বছরের পর বছর ধরে মুসল্লিদের অনুদানে এবং স্থানীয় জমির মালিকদের সম্মতিতে নির্মিত হয়েছে। অনেক কমিটি জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছে।
এদিকে, বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের অনেক সাধারণ মুসলমান এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এক মসজিদ কর্মকর্তা। অরুণাচল প্রদেশে আদিবাসী পরিচয়, বহিরাগত ও ভূমি অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বেশ সংবেদনশীল বিষয়। তবে স্থানীয় উত্তেজনা ও প্রতিবাদের মুখেও প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তাদের সাফ কথা, আইনি অনুমোদন না থাকার কারণেই মসজিদগুলো সিল করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৩