চাপিয়ে-দেয়া তৃতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে শহীদ ইমামের বিস্ময়কর পূর্বাভাস!
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160394-চাপিয়ে_দেয়া_তৃতীয়_যুদ্ধ_সম্পর্কে_শহীদ_ইমামের_বিস্ময়কর_পূর্বাভাস!
পার্সটুডে: সেদিন হয়তো অনেকেই এই বক্তব্যকে কেবল ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের জবাব হিসেবে দেখেছিলেন; কিন্তু তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে এই পূর্বাভাস ইরানের জনগণ, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতা এবং ইতিহাসের সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জাতির ভূমিকা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছিল।
(last modified 2026-06-16T11:19:51+00:00 )
জুন ১৬, ২০২৬ ১৬:৩৯ Asia/Dhaka
  • শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী
    শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী

পার্সটুডে: সেদিন হয়তো অনেকেই এই বক্তব্যকে কেবল ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের জবাব হিসেবে দেখেছিলেন; কিন্তু তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে এই পূর্বাভাস ইরানের জনগণ, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতা এবং ইতিহাসের সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জাতির ভূমিকা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তির ঘটনা ও পূর্বাভাসের বাস্তবায়ন

কিছু কিছু বক্তব্য এমন হয়, যা উচ্চারিত হওয়ার মুহূর্তে কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, একইসঙ্গে এক ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বলেও মনে হয়। সেই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা বা অসত্যতা গণমাধ্যম নয়, বরং ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক ইতিহাস এমন অনেক বক্তব্যে পরিপূর্ণ, যেগুলো প্রথমে কেবল দাবি হিসেবে বিবেচিত হলেও সময়ের প্রবাহে বাস্তবতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত হয়েছে।

১৪০৪ সালের ২৮ বহমান (ইরানি ক্যালেন্ডার) তথা ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী আজারবাইজানের জনগণের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এমনই একটি বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ৪৭ বছরেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি। শহীদ বিপ্লবী নেতা এই বক্তব্যকে “ভালো একটি স্বীকারোক্তি” বলে অভিহিত করেন এবং এরপর একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ মন্তব্য করেন:

“তুমিও এই কাজটি করতে পারবে না।”

সেদিন হয়তো অনেকেই এটিকে ট্রাম্পের কথার জবাব হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে এই পূর্বাভাস ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রের শক্তি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির ফল ছিল।

ইরানের ইসলামী সরকার উৎখাতের স্বপ্নের ব্যর্থতা

৯ এসফান্দের সকালে তথা ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শুরু করে। তাদের ধারণা ছিল, প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি বড় আঘাত হেনে তারা তিন দিনের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে।

শহীদ ইমাম ও সামরিক কমান্ডারদের শাহাদাত এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা ইরানি জাতির জন্য গভীর ক্ষতি ও বেদনার কারণ হলেও, যুদ্ধের পরিকল্পনাকারীদের দৃষ্টিতে এগুলো ছিল আরও বৃহৎ ও বহুস্তর-বিশিষ্ট পরিকল্পনার কেবল একটি অংশ।

মূল লক্ষ্য ছিল শুধু শহীদ ইমাম ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা বা কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করা নয়; বরং ইরানের শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা অচল করে দেওয়া।

তাদের পরিকল্পনা ছিল এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, একটি আকস্মিক আঘাতের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ঘটনা ঘটবে—সামাজিক ধাক্কা, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজনের তীব্রতা বৃদ্ধি, জাতীয় সংহতির ভাঙন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দুর্বলতা এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন।

কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আক্রমণকারীদের মূল হিসাব ছিল—একটি বড় ধাক্কার মুখে ইরানি সমাজ ভেঙে পড়বে। কিন্তু ইরানি জনগণের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে জাতীয় সংহতির ঢেউ সৃষ্টি হয়। বিভাজন বাড়ার বদলে রাজনৈতিক ও সামাজিক দূরত্ব অনেক কমে আসে। বরং  জনআস্থার পতনের পরিবর্তে দেশ রক্ষার জন্য এক ধরনের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।

একই সঙ্গে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা অকার্যকর করে দেওয়ার শত্রুপক্ষের সামরিক লক্ষ্যও ব্যর্থ হয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি আগ্রাসনের জবাবে ব্যাপক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানায়।

অসম যুদ্ধের ক্ষেত্রে, যখন একটি পরাশক্তি কোনো দেশকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে, তখন সেই দেশের টিকে থাকাই সরকার পরিবর্তনের প্রকল্পের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি দেশটি শুধু টিকে থাকাই নয়, বরং তার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ইচ্ছাশক্তিও বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে আক্রমণকারীর ব্যর্থতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।

ইরানের রেজিম বা সরকার পরিবর্তনে আমার কখনও আগ্রহ ছিল না: ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তির জবাবে- “তুমিও এই কাজটি করতে পারবে না।”- এটি কেবল একটি বাক্য ছিল না; এটি ছিল শহীদ ইমামের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানি জাতি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে একটি পূর্বাভাস।

১৪০৪ সালের বহমান মাসে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক মাস আগে তিনি এই কথা বলেছিলেন। যুদ্ধের শতাধিক দিন পর বাস্তবতা সেই পূর্বাভাসের সত্যতা প্রমাণ করেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

সম্ভবত এই ব্যর্থতার সবচেয়ে স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন:

“ইরানে শাসন পরিবর্তনে আমার কখনও আগ্রহ ছিল না।”

এই বক্তব্য তার আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধানকেই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। কারণ তিনি শুধু বহুবার ইরানের সরকার পরিবর্তনের কথা বলেননি, বরং শতাধিক দিন ধরে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় সাফল্য ট্রাম্পকে এমন এক বিজয়ের বিভ্রমে ফেলেছিল যে তিনি ভেবেছিলেন, ইরানও একই পরিণতি মেনে নেবে। কিন্তু ইরান ভেনেজুয়েলা ছিল না।

খুব দ্রুতই তিনি সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যার অভিজ্ঞতা এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও অর্জন করেছিলেন: ইরান বীরত্বগাথার দেশ; এমন এক ভূখণ্ড, যা অসংখ্য ঝড়-ঝাপটা অতিক্রম করেছে এবং যার জনগণের ইচ্ছাশক্তিকে কোনো শক্তিই ভেঙে দিতে পারেনি।

এই মুখোমুখি সংঘাতের শেষে ট্রাম্প এমন এক বাস্তবতার সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হন, যাকে তিনি পরিবর্তন করতে সক্ষম হননি—সেই বাস্তবতার নাম ইরান।

আর সেই সত্যকেই শহীদ ইমাম একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঐতিহাসিক বাক্যে প্রকাশ করেছিলেন:

“মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে ৪৭ বছরেও আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি; তিনি নিজের জনগণের কাছে অভিযোগ করছেন। এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। আমি বলছি: তুমিও এই কাজটি করতে পারবে না।”#
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।