'ইসরায়েল আমাকে অনেক সম্মান করে'
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত: ট্রাম্প
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার সহায়তা না থাকলে তেল আবিব “ধ্বংস হয়ে যেত”।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের তথাকথিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে মার্কিন সাহায্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ট্রাম্প বলেছেন: “আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা, আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এবং বি-২ বোমারু বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ সরবরাহ করেছে।
ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-এর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওয়াশিংটনের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন:
“নেতানিয়াহু, যিনি আমার সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করেছেন, আপনাকে বলবেন যে অস্ত্র আমাদের, আয়রন ডোম আমাদের, আর বি-২ বোমারু বিমানও আমাদের।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে ইসরায়েল তাকে অত্যন্ত সম্মান করে এবং তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়। তার মতে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নির্ধারণে ওয়াশিংটন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ট্রাম্প বলেন: “ইসরায়েল আমাকে অনেক সম্মান করে।”
এরপর নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে তিনি যোগ করেন: “তবে আমাদের তাকে কিছুটা সংযত রাখতেও হয়।”
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালেও ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে চলতি মাসে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে তিনি ফোনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি জানান, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, নেতানিয়াহু “লেবাননের সঙ্গে ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাওয়ার কারণে কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিলেন” এবং এ বিষয়টি নিয়ে তিনি তাকে তিরস্কার করেছিলেন।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশিত হলেও, ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণ লেবাননে নতুন ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়।
শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ৪৭ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হওয়ার কথা।
তবে শান্তি আলোচনার বাইরে থাকা ইহুদিবাদী ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের আবাসিক এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।#
পার্স টুডে/এমএএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।