যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ: লেবার পার্টিতে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার লড়াই শুরু
-
কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটল এবং তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
স্টারমার বলেন, তাঁর দল লেবার পার্টির নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আজ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত সোমবার স্টারমার নিশ্চিত করেন যে, আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে। তবে গত ১৮ জুনের বিশেষ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক লেবার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম ইতিমধ্যেই এই পদের জন্য সবচেয়ে ফেভারিট বা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় চলে এসেছেন।
স্টারমার বলেন, "আমার দল এখন যে প্রশ্নটি তুলছে তা হলো—পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি? এই প্রশ্নের জবাবে আমার সংসদীয় দল (পার্লামেন্টারি পার্টি) কী বলতে চাইছে তা আমি বুঝতে পেরেছি এবং আমি অত্যন্ত সদয় চিত্তে তাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।"
গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় বিপর্যয় এবং স্টারমারের নেতৃত্ব দেওয়ার ধরণ ও নীতিগত এজেন্ডা নিয়ে দলের ভেতর তীব্র অসন্তোষ তৈরি হওয়ার পর, কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল। এই চাপের মুখেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে এক ঐতিহাসিক ও ভূমিধস জয় এনে দেওয়ার ঠিক দুই বছরের মাথায় তাঁর এই বিদায় ঘটল। ওই নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই লেবার পার্টি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার ঠিক পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার নিশ্চিত করেন যে, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
১৮ জুনের বিশেষ নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের বিশাল জয় তাঁকে দলীয় নেতৃত্ব এবং চূড়ান্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল স্টারমার ও অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে। এর পাশাপাশি বিতর্কিত কল্যাণমূলক পরিবর্তন এবং সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দলের ভেতরের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
জনমতও স্পষ্টভাবেই প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে চলে গিয়েছিল। গত শুক্রবার প্রকাশিত ইপসস (Ipsos) এর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫২% ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন স্টারমারের পদত্যাগ করা উচিত (যা মে মাসের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি), যেখানে মাত্র ৩৫% মানুষ মনে করেন তাঁর পদে থাকা উচিত।
কয়েক বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি সরকারের জন্য এটি এক নাটকীয় মোড়। স্টারমারের এই প্রস্থানের ফলে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২২