রাতেই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
ঢাকা-বেইজিং ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা: তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা দেবে চীন
-
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে দুই দেশ বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ (শুক্রবার) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করা হয়।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে।
দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার, শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। মংলা বন্দর আধুনিকায়ন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যৌথ ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহায়তা করবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন। এছাড়া বন্যা প্রতিরোধ, নদী খনন, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুই দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে। চীনও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তাঁর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শোডাউন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে কেবল সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অংশ নেন। চীন সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিলও স্বাক্ষরিত হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৬