আন্তর্জাতিক রেলপথে মার্কিন হামলা; যুক্তরাষ্ট্রের জঘন্য যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানাল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161184-আন্তর্জাতিক_রেলপথে_মার্কিন_হামলা_যুক্তরাষ্ট্রের_জঘন্য_যুদ্ধাপরাধের_নিন্দা_জানাল_ইরান
পার্সটুডে: আন্তর্জাতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোরের অংশ হিসেবে উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি সেতুসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরান বলেছে, এসব হামলা “জঘন্য যুদ্ধাপরাধ” এবং জাতিসংঘ সনদ ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
(last modified 2026-07-09T13:56:50+00:00 )
জুলাই ০৯, ২০২৬ ১৯:২৫ Asia/Dhaka
  • ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ দক্ষিণ তেহরানের আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। (ফাইল ছবি)
    ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ দক্ষিণ তেহরানের আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। (ফাইল ছবি)

পার্সটুডে: আন্তর্জাতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোরের অংশ হিসেবে উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি সেতুসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরান বলেছে, এসব হামলা “জঘন্য যুদ্ধাপরাধ” এবং জাতিসংঘ সনদ ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আাজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক কঠোর ভাষার বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব হামলা “জঘন্য যুদ্ধাপরাধ” এবং জাতিসংঘ সনদ ও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে ইরানের জনগণের অবিচল সংকল্পের প্রশংসা করে বলা হয়, তারা দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে মঙ্গলবার কয়েকটি জাহাজ-সংক্রান্ত কথিত ঘটনার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে “অপরাধমূলক” হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলা শুধু জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, একইসঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ও পঞ্চম অনুচ্ছেদেরও গুরুতর লঙ্ঘন।

এতে আরও বলা হয়, এই হামলাগুলোকে সমঝোতা স্মারকের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত অঙ্গীকারহীনতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এই হামলার সময় ইরানের “প্রজ্ঞাবান ও সাহসী” জনগণ ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী-এর ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অভূতপূর্ব উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের শক্তি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার অটল সংকল্প প্রদর্শন করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানি জাতির দেশপ্রেম ও ইসলামী বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্যের মহিমা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষপূর্ণ ও মানসিক বিকারগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠী অপমান, মিথ্যাচার এবং সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই তারা মাশহাদের রেলপথকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের “জঘন্য বক্তব্য”-এর প্রতিও তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ জুনের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি দেশটির “বিশ্বাসঘাতকতা, অসৎ উদ্দেশ্য, যুদ্ধবাজ মনোভাব ও বিদ্বেষের আরেকটি স্পষ্ট প্রমাণ।”

বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর।

এতে আরও বলা হয়, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর বিশ্বাসঘাতকতা, দাদাগিরি ও নৈতিক অবক্ষয়কে ইরানের জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে দেবে না।”

মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত, মাশহাদগামী রেলপথে ক্ষয়ক্ষতি

এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র গোলেস্তান প্রদেশের আক-কালা এলাকায় একটি রেলসেতুতে হামলা চালিয়েছে।

এই সেতুটি চীন–কাজাখস্তান–তুর্কমেনিস্তান–ইনচেহ বরুন আন্তর্জাতিক রেল করিডোরের অংশ। করিডোরটি ইরানের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করে গোরগান হয়ে তেহরানে পৌঁছেছে। এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা চীনের শিয়ান শহরকে ইরানের রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত বছর এই করিডোর দিয়ে অন্তত ৬৫টি মালবাহী ট্রেন চীন থেকে ইরানে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবৈধ অবরোধ আরোপের পর এই রেলপথে পণ্য পরিবহন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষের দিকে রাশিয়াও এই রুট ব্যবহার করে ইরানে পণ্য পরিবহন শুরু করে। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এই রেলপথে হামলা শুধু একটি সাধারণ সামরিক অভিযান নয়; এর কৌশলগত তাৎপর্যও রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে ইরানের রেল অবকাঠামোর ওপর হামলার পর ৯৬ ঘণ্টারও কম সময়ে ছয়টি রেলসেতু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

পাঁচ প্রদেশে মার্কিন হামলায় নিহত ১৪

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কয়েকটি উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা এবং মাহশাহর বন্দর নগরীতেও হামলা চালায়।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গত দুই দিনে পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, খোরাসান রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জাভাদ মেরাজি-ফার ইরনার কাছে জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে রেললাইনের একটি অংশে যুক্তরাষ্ট্রের “অপরাধমূলক” হামলার কারণে তেহরান–মাশহাদ রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।