'যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় আড়াল করতে তারা যুদ্ধাপরাধের আশ্রয় নিয়েছে'
মার্কিন আগ্রাসীদের আশ্রয়দাতা দেশগুলো অনুরূপ জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকুক: ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
-
ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা
পার্সটুডে: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ তাদের ২৭ নম্বর বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, কুয়েতের আরিফজান (Arifjan) এলাকায় মার্কিন স্থলবাহিনীর সহায়তা কেন্দ্রের সেনা সমাবেশস্থল এবং আলী আল-সালেম (Ali Al Salem) মার্কিন ঘাঁটির রাডার ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে
চুক্তিভঙ্গকারী মার্কিন সরকার আবারও আলোচনার মাঝখানে এবং ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে গত সপ্তাহের শুরু থেকে সেই যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় শুরু করেছে, যে যুদ্ধ তারা কখনোই প্রকৃতপক্ষে শেষ করেনি।
কিন্তু কয়েকদিন ধরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে এবং নিজেদের আগ্রাসনের জবাবে কঠোর পাল্টা আঘাত পাওয়ার পর, তারা বুঝতে পেরেছে যে, যুদ্ধের প্রথম দিনের (৯ এসফান্দ তথা ২৮ ফেব্রুয়ারির) তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
এ অবস্থায়, সম্মানের সঙ্গে পরাজয় মেনে নেওয়া এবং নিজেদের আরেকটি ভুল হিসাবের কথা স্বীকার করার পরিবর্তে, গতকাল থেকে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে গিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় আড়াল করতে তারা যুদ্ধাপরাধের আশ্রয় নিয়েছে এবং হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, বন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। তারা যুদ্ধের বদলে অপরাধ ও অমানবিকতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
যেহেতু মার্কিন সেনাবাহিনীর এই নৃশংসতা ঠেকানোর মতো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যকরভাবে এগিয়ে আসছে না, তাই আমাদের সামনে পবিত্র কোরআনের এই নির্দেশনা অনুসরণ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই:
"অতএব, কেউ যদি তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরাও তার ওপর ঠিক ততটুকুই প্রতিশোধ নাও, যতটুকু সে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে।"
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৪)
সুতরাং, যেসব দেশ মার্কিন আগ্রাসী সেনাদের নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ দিয়েছে, তাদের সমপর্যায়ের জবাব পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। একই সঙ্গে, নিজেদের নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু থেকে তাদের দূরে রাখতে তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা প্রয়োজন।
তবে শত্রুপক্ষের এই অমানবিক নীতি পরিবর্তনের সুযোগ করে দিতে আমরা আপাতত গত রাতে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই প্রতিক্রিয়ার জন্য বেছে নিয়েছি।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর সাহসী যোদ্ধারা "নাসর-২" অভিযানের ১৮তম ধাপে পবিত্র স্লোগান "ইয়া আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.)" উচ্চারণ করে আরিফজানে মার্কিন স্থলবাহিনীর সহায়তা কেন্দ্রে অবস্থানরত আগ্রাসী সেনাদের সমাবেশস্থলে হামলা চালায় এবং তাদের একটি অংশকে হত্যা করে।
একই সময়ে, ড্রোন হামলার মাধ্যমে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলী আল-সালেম ঘাঁটির রাডার ধ্বংস করা হয়। এছাড়া, আইআরজিসির স্থলবাহিনী একটি অস্ত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারও ধ্বংস করেছে।
যোদ্ধাদের পাল্টা প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
"যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কেউই তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।"
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৬০) #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।