রাষ্ট্রের সম্পদ জব্দ করা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে আরাকচি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161628-রাষ্ট্রের_সম্পদ_জব্দ_করা_বিপজ্জনক_নজির_তৈরি_করবে_ট্রাম্পের_হুমকির_জবাবে_আরাকচি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে নৌপরিবহনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।
(last modified 2026-07-24T12:06:18+00:00 )
জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৭:৩৬ Asia/Dhaka
  • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি

পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে নৌপরিবহনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।

শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি বলেন, অন্য একটি দেশের সম্পদ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ও সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট দাবির অর্থ পরিশোধে ব্যবহার করা একটি "উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক নজির"।

তিনি লিখেছেন, "যারা এ ধরনের অর্থকে স্বাগত জানায় বা এর মাধ্যমে লাভবান হয়, তাদের মনে রাখা উচিত, একবার রাষ্ট্রগুলো অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করলে আর কারও সম্পদই নিরাপদ থাকবে না। এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে, তা কখনোই সুখকর বা শান্তিপূর্ণ হবে না।"

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী বিমান হামলা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে জাহাজগুলোকে একটি অনিরাপদ পথ দিয়ে চলাচলে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে কয়েকটি জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে।

এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অনিরাপদ রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের পর থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সম্পদ জব্দের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক একাধিক উসকানিমূলক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা।

সম্প্রতি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলার প্রতিটি ঘটনার জন্য ইরানের অভ্যন্তরে একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র, এমনকি তেহরানের আশপাশের স্থাপনাও বোমা হামলায় ধ্বংস করা হবে।

এছাড়া তিনি ঘোষণা দেন, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্যও ইরানকে দায়ী করা হবে এবং এর জবাবে "বড় ধরনের সামরিক শাস্তি" দেওয়া হবে।

ইরানের অভিযোগ, এটি প্রথমবার নয় যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেহরানের মতে, এটি প্রকাশ্য জলদস্যুতা।

একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এমটি অ্যাকিলিয়াস (MT Achilleas) নামের একটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখেরও বেশি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল জব্দ করে, পরে তা ১১ কোটি ডলারে বিক্রি করে।

এছাড়া ২০২৩ সালে সুয়েজ রাজান (Suez Rajan) ট্যাংকার থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল জব্দ করা হয়। সে সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ ঘটনাকে "স্পষ্ট জলদস্যুতা" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

এদিকে, একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু পরে ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে সেই অঙ্ক কমিয়ে প্রথমে ১২ বিলিয়ন, পরে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়া হবে বলে দাবি করে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থই মুক্ত করেনি। #
 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।