'এখনো মার্কিন প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা উপসাগরীয় আরব সরকারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না'
মার্কিন ঘাঁটিগুলোই আঞ্চলিক নিরাপত্তার ধাঁধা: ‘মক্কা চুক্তি’ সম্পর্কে সাবেক পাক সাংসদের প্রতিক্রিয়া
-
পাকিস্তানের সাবেক সংসদ সদস্য আয়াজ আমির
পার্সটুডে: পাকিস্তানের সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, আঞ্চলিক হুমকির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।
একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ এ ধরনের চুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সেসব ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
পার্সটুডে ইরনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাজনৈতিক চিন্তাবিদ আয়াজ আমির পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এক নিবন্ধে লিখেছেন, “হুমকি কোথা থেকে আসছে?” তিনি বলেন, এখন যেহেতু এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তাই প্রশ্ন করা যায়—হামলার হুমকি আসছে কোথা থেকে? শুধু কোথা থেকে নয়, কার কাছ থেকে?
তিনি আরও বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তুরস্ককে নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু তুরস্কের বিরুদ্ধে হামলার কোনো হুমকি নেই। ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এই হুমকি তুরস্কের কাছে পৌঁছায়নি।
পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে আয়াজ আমির লিখেছেন, পাকিস্তান বিভিন্ন হুমকির মুখোমুখি হলেও সেগুলো সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ। দেশে বিদ্রোহ চলছে, কিন্তু সবকিছুই সীমান্তের ভেতরে ঘটছে। এর পেছনে বিদেশি সমর্থন থাকতে পারে, তবে এর আগুন দেশের অভ্যন্তরেই জ্বলছে।
তিনি বলেন, তাই পাকিস্তান যে হুমকিগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলায় তুরস্ক ও সৌদি আরব পাকিস্তানের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
আয়াজ আমির বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম নিরাপত্তার ছাতাকে উন্মোচিত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এ হামলায় গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলার জবাবে ইরান শুধু ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি, একইসঙ্গে গোটা অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি লিখেছেন, ইরান গোপনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; বরং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, “আমাদের বিরুদ্ধে যদি আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইরান জবাব দেবে।” একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
আয়াজ আমির জোর দিয়ে বলেন, এই সব সমস্যার মূল কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা। ইরানের ওপর এসব হামলা না হলে ইরানও কোনো পাল্টা হামলা চালাত না এবং আরব দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতো না। কিন্তু উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়নি। এমনকি তারা এটাও বলেনি যে, তাদের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ইরান যখন পাল্টা জবাব দিল, তখন সব দেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন করছিল—এ কেমন ক্রোধ, আর ইরান কেন এমন হামলা চালাচ্ছে?
আয়াজ আমির আরও বলেন, এখন আলোচনার মূল বিষয় হলো, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে বলা: “আপনাদের সমর্থন ও ঘাঁটির জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এখন দয়া করে আমাদের নিজেদের মতো থাকতে দিন। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমরা নিজেরাই পরিকল্পনা করব।”
তবে তিনি বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো নানা ঝুঁকির মুখে পড়লেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/০৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।