'আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে'
মার্কিন ছাত্রদের কাছে ইসরায়েল শিশু-ঘাতক হিসেবে কুখ্যাত: সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
-
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত
পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত স্বীকার করেছেন যে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ভেঙে পড়েছে।
ইতাই সেগালের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, আমেরিকান তরুণদের কাছে ইসরায়েল এখন গণহত্যার সমার্থক হয়ে উঠেছে।
বেনেত বলেছেন, “ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো আমেরিকান জনগণের মধ্যে ইসরায়েল একটি নেতিবাচক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।”
তিনি এই পরিবর্তনের তীব্রতা তুলে ধরে বলেন, “আপনি যদি কোনো আমেরিকান শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ইসরায়েল শব্দটি বললে আপনার কী মনে পড়ে?’ তারা বলবে, গণহত্যা। এটাই বাস্তবতা।” এরপর তিনি একটি তুলনা তুলে ধরেন: “আপনি যখন বলবেন ইতালি—‘পাস্তা, স্প্যাগেটির কথা বলবে সব আমেরিকান ছাত্র; আর আপনি যখন বলবেন ইসরায়েল— তখন তারা বলবে: শিশু হত্যাকারী।”
বেনেত অবশ্য এর দায় এড়ানোর চেষ্টা করে কথিত একটি “২৫ বছরের কাতারি প্রভাব বিস্তার অভিযান”-এর দিকে ইঙ্গিত করেন। তবে বাস্তবতার হিসাব ভিন্ন কথা বলে। হাসবারাহ ও ইহুদিবাদী প্রচারাভিযানে ব্যয় করা কোটি কোটি ডলার ইসরায়েলের গণহত্যামূলক দখলদারিত্বকে আড়াল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গণহত্যার সঙ্গে ইসরায়েলের এই সম্পর্কের সরাসরি কারণ গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হল নারী ও শিশু।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিও সহিংসতা থামাতে পারেনি। ইসরায়েলি বাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে আরও ১,৩০০ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৪,৩০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে ব্যাপক। পুনর্গঠনের ব্যয় সাত হাজার কোটি তথা ৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই অভিযানের নেপথ্যের কারিগররা এখন আন্তর্জাতিকভাবে পলাতক আসামি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে এখনও অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন; ১২৫টি দেশে এই পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে।
জনমত জরিপের তথ্যও এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
সম্প্রতি আইনপ্রণেতারা ইসরায়েলপন্থী বিষয়বস্তু প্রচারের জন্য ৭৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি জনকূটনীতি বাজেট অনুমোদন করেছেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা কোনো কাজেই আসছে না।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ইসরায়েলের নির্মিত চেহারা বা ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। বেনেতের স্বীকারোক্তি কেবল এমন একটি পতনকে স্বীকার করে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক ও অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠেছে। #
পার্সটুডে/এমএআর/০১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।