'প্রস্তাব: শর্ত মানলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ ফের খোলা ও সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র হবে চূড়ান্ত চুক্তির শরিক'
'হরমুজ প্রণালি শর্তসাপেক্ষে পুনরায় খুলতে ৭ দিনের ইরানি পরিকল্পনা'
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য সাত দিনের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিকল্পনাটি গ্রহণ করার পর সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে।
তিনি বলেন, “যদি আগামীকাল এমনটি ঘটে, তাহলে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু হবে।”
আরাকচি বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে ইরান মনে করে, পুরো প্রক্রিয়াটি চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, প্রস্তাবিত ধাপ অনুযায়ী ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে প্রবেশ করবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর কথা ইতোমধ্যেই মার্কিন পক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর মধ্যেই সেগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান কৌশলগত এই পানিপথটি বন্ধ করে দেয়।
জুন মাসে সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে তেহরান ও ওয়াশিংটন ৬০ দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা লঙ্ঘনের কারণে তেহরান আবারও প্রণালির চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয় বলে আরাকচি জানান।
আরাকচি বলেন, “মার্কিন পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা থাকলে এটি ঘটবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ইরান নিরাপদ ও সুরক্ষিত নৌ চলাচলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার দাবি, আরও সামরিক আগ্রাসন, হুমকি, অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রয়োগ করা বিভিন্ন চাপের মাধ্যম বা উপকরণের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা ছিল।” তিনি আরও বলেন, সাগর-পথটিতে অনিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নৌ চলাচলে বিঘ্ন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল।
ইরানের এই কর্মকর্তা স্মরণ করিয়ে দেন যে, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব ইরান নিয়েছিল। তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে সামুদ্রিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অবিলম্বে ওমানের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা শুরু করে।
তিনি বলেন, “সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সামুদ্রিক চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের প্রায় ৬০ শতাংশে ফিরে এসেছিল।”
তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক আগ্রাসন এবং অন্যান্য আগ্রাসী পদক্ষেপ সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন লঙ্ঘন ও বন্ধ করে দেয় বলে তিনি জানান।
আরাকচি বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং কূটনীতির প্রতি তার অঙ্গীকার অব্যাহতভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদনের জন্য পরিচালিত আলোচনা এবং গত দুই বছরে কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান অনুসরণের ইরানের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ /২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।