'যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে'
'এখন থেকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেবে ইরান নয়া সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে'
-
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফাজল শেকারচি
পার্সটুডে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেলআবুল ফাজল শেকারচি বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আরও উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটি শত্রুদের জন্য “চমক” প্রস্তুত রেখেছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের জবাব নতুন সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে দেবে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ সংবাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় শেকারচি বলেছেন, ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো প্রচলিত যুদ্ধব্যবস্থা থেকে অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশলে (asymmetric warfare) রূপান্তর।
তিনি বলেন, “প্রচলিত যুদ্ধের পদ্ধতিগুলো অসম যুদ্ধের বিরুদ্ধে দুর্বল।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, অপ্রতিসম যুদ্ধ বলতে শত্রুর ব্যয়বহুল ও ভারী অস্ত্রের মোকাবিলায় তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল, সরল কিন্তু অধিক কার্যকর ও ব্যবহারিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করাকে বোঝায়।
তিনি বলেন, ইরানের এই যুদ্ধকৌশল আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান তার প্রতিপক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছে এবং এমনকি তাদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
শেকারচি প্রয়াত কমান্ডার হাসান তেহরানি মোকাদ্দামের অবদানও তুলে ধরেন। তার মতে, মোকাদ্দাম ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র খাতে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, আকস্মিকতার উপাদান বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী তথ্যের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে, দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে তারা ভুল হিসাব করেছিল।
তিনি বলেন, “শত্রুর যদি সামান্যও বোধবুদ্ধি থাকত, তাহলে তারা ইরানে হামলা করত না।”
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজ নিরাপত্তা পাবে না।
তিনি বলেন, “আমেরিকানদের হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করাটা কেবল স্বপ্নের মধ্যেই দেখতে হবে। আর তারা যদি হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তারা চপেটাঘাতের শিকার হবে।” যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই পানিপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়া ছেড়ে যাওয়া ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “তারা যত দ্রুত চলে যাবে, তত কম ক্ষতির মুখোমুখি হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর এই অঞ্চল নিশ্চিতভাবেই নিরাপদ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।#
পার্সটুডে/এমএএইচ /২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।