বুসান চলচ্চিত্র উৎসব যেভাবে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন-বিরোধী প্রতিবাদ-মঞ্চ হল
https://parstoday.ir/bn/news/event-i164002-বুসান_চলচ্চিত্র_উৎসব_যেভাবে_মার্কিন_ইসরায়েলি_আগ্রাসন_বিরোধী_প্রতিবাদ_মঞ্চ_হল
পার্সটুডে: ইরানি চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান পরিচালক যখন মাতৃভূমির দুর্দশার কথা বললেন তখন বুসান চলচ্চিত্র উৎসব মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধী প্রতিবাদ-মঞ্চের রূপ নেয়।
(last modified 2026-10-17T11:33:04+00:00 )
অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৫০ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদি
    ইরানের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদি

পার্সটুডে: ইরানি চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান পরিচালক যখন মাতৃভূমির দুর্দশার কথা বললেন তখন বুসান চলচ্চিত্র উৎসব মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধী প্রতিবাদ-মঞ্চের রূপ নেয়।

২০২৬ সালের বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মধ্যাহ্নভোজ’ (খোরাকে নিমরুজ বা রুটি ও বই) নামক ছায়াছবির জন্য সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার গ্রহণের পর ইরানের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদি স্পষ্ট ভাষায় ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হামলা, মিনাবের শিশুদের শাহাদাত এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর পুরস্কার গ্রহণ পর্বকে ইরানি জনগণের দুর্ভোগের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার মঞ্চে পরিণত করেন।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার অর্জনের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক উদ্বেগ তুলে ধরারও সুযোগ এনে দেয়। ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদি ২০২৬ সালের বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ‘মধ্যাহ্নভোজ’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার গ্রহণের পর সেই সুযোগ কাজে লাগান। বক্তব্যে তিনি ইরানের জনগণের পরিস্থিতি এবং যুদ্ধে নিহত শিশুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ পর্বে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হামলায় মিনাবের শিশুদের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করে মাজিদি বলেন, “হামলার প্রথম দিনেই ১৬৮ জন নিরপরাধ ইরানি শিশুকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছিল। এমনকি ওই শিশুদের কয়েকজনের মরদেহও আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়িঘর, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, আর এতে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন।”

মাজিদির বক্তব্যের গুরুত্বকে কেবল পুরস্কার গ্রহণের সময় দেয়া একটি মন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। এমন এক মুহূর্তে তিনি চাইলে শুধু নিজের চলচ্চিত্র, পেশাগত সাফল্য ও সিনেমা-জগতের অর্জন নিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক মঞ্চের একটি অংশকে যুদ্ধের শিকার মানুষদের দুর্ভোগ স্মরণ করার জন্য উৎসর্গ করেন।

এই বক্তব্যের পরপরই ইরানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মাজিদির এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে মাজিদ মাজিদির মতো মানুষ জানেন কীভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়িয়ে ইরান ও ইরানি জনগণের সম্মান ও মর্যাদার কথা তুলে ধরতে হয় এবং প্রকৃত অর্থে দেশের মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হয়।

একজন ইউজার বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে মাজিদির বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের পক্ষে সম্মানজনকভাবে অবস্থান নেয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যায় ও অপরাধের মুখে নিরব থাকার পরিবর্তে মাজিদি একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চকে ইরানি জনগণের নিপীড়ন ও প্রতিরোধের কাহিনি তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করেছেন। শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে এই বক্তব্য যুদ্ধের শিকার মানুষদের—বিশেষ করে মিনাবের শিশুদের—কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।