পশ্চিমবঙ্গে ‘সিএএ’ কার্যকরের মধ্যদিয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে -অর্জুন রাম মেঘওয়াল
https://parstoday.ir/bn/news/india-i115612-পশ্চিমবঙ্গে_সিএএ’_কার্যকরের_মধ্যদিয়ে_মতুয়াদের_নাগরিকত্ব_দেওয়া_হবে_অর্জুন_রাম_মেঘওয়াল
ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল পশ্চিমবঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (‘সিএএ’) কার্যকর করার মধ্য দিয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০২২ ১৫:০১ Asia/Dhaka
  • ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম  মেঘওয়াল
    ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল

ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল পশ্চিমবঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (‘সিএএ’) কার্যকর করার মধ্য দিয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

গতকাল (সোমবার) পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে মতুয়াদের এক অনুষ্ঠানে এসে ওই বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব খুব স্পষ্ট। মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত এবং এজন্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করা হয়েছে। তার বিধি তৈরিতে কিছু টেকনিক্যাল বাধা দূর করা হচ্ছে, সেজন্য সময় লাগছে। নিশ্চিতভাবে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুটা সময় লাগছে টেকনিক্যাল কারণে। কীভাবে, কোন কোন রাজ্যে তা কার্যকর করা যায় সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।    

ওই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর সাবেক এমপি ও মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেছেন, ২০১৯ সাল থেকে নাগরিকত্ব দেওয়ার গল্প শুনছি, বিজেপি মতুয়া সমাজকে ভুল বুঝিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছে।   

মমতা ঠাকুর বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে নাগরিকত্ব দেওয়ার একই গল্প শুনছি। যখনই কোনও নেতা-মন্ত্রী কেন্দ্র থেকে আসে, তাদের একই কথা যে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু কী কী এজন্য প্রয়োজন সেসব খুলে কিছু তারা বলছেন না। গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে সুবিধা পেতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৫ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলছে। যদি ১৯৫৫ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে ২০১৯ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কী প্রয়োজন? ২০১৯ সালে ‘সিএএ’ নামের বিল পাশ করার মানে কী? ১৯৫৫ সালের আইন অনুযায়ী দিলেই তো সবাই নাগরিকত্ব পেতে পারে। তাছাড়া আমরা নাগরিক বলেই ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি। আমাদের ভোটের জন্যই নেতারা মন্ত্রী হন। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর যা বলেছেন তা আরও ভয়ঙ্কর! উনি বলেছেন, মতুয়া হলেই, তারা নাগরিকত্ব পাবে না। তাদের ‘নিপীড়নের প্রমাণ’ দিতে হবে। এটা আরও ভয়ানক পরিস্থিতি! এভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কে কী বলছেন সেই বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে। ঠাকুরনগরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসেছিলেন, ভেবেছিলাম তিনি হয়ত মতুয়াদের হাতে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র তুলে দেবেন। কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই একই কথা বলা হচ্ছে ‘নাগরিকত্ব দেওয়া হবে’। আমার মনে হয় বিষয়টি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আমাদের মতুয়া সমাজের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু মানুষজন এখন অনেক সচেতন, তারা সবকিছু বোঝেন’ বলেও মন্তব্য করেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর।  

পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর সাবেক এমপি ও মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর 

সম্প্রতি ভারতের গুজরাটে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সে রাজ্যের আনন্দ এবং মেহসানা জেলায় বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের আওতায় তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

১৯৫৫ সালের আইনে কিন্তু ‘মুসলমানদের’ বাদ রাখার কোনও শর্ত বা প্রস্তাব ছিল না। সেই আইন ছিল ধর্ম বিষয়ে ‘নিরপেক্ষ’, অর্থাৎ নিঃশর্ত। কিন্তু ২০১৯ সালের ‘সিএএ’ আইনে ‘মুসলিমদের বাদ’ দিয়ে ৬টি ‘অমুসলিম’ সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব  দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই আইনে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও বিতর্কিত ওই আইন এখনও কার্যকর হয়নি।      

ওই আইনের বিরুদ্ধে (সিএএ) সুপ্রিম কোর্টে মোট ২৩২টি আবেদন জমা পড়েছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার, অসম, ত্রিপুরা সরকার ও আবেদনকারীদের অবস্থান জানাতে তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছে। ওই মামলার শুনানি হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। ‘ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগ’-এর আবেদনকে মূল আবেদন হিসেবে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট।  আবেদনকারীরা বলেছেন, তারা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধী নন। কিন্তু ওই আইনে (সিএএ) ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে। তারা সেই বৈষম্যের বিরোধী। ‘মুসলিমদের’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের আওতা থেকে বাইরে রাখা ধর্মীয় বৈষম্যের শামিল। ভারতে সব ধর্মের বাসিন্দাকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। এই আইন তারও বিরোধী। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্বের অধিকার পাওয়া যায় জন্মসূত্রে বা ভারতে বসবাসের ফলে উদ্ভূত অধিকারের ফলে। কিন্তু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) ধর্মকে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী। সংবিধানের মূল কাঠামোর অংশ হল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। #       

             

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।