পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদের মারধর করার নির্দেশ দেওয়ায় বিজেপি ও তৃণমূল নেতার পাল্টাপাল্টি মন্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/india-i115840-পশ্চিমবঙ্গে_বিরোধীদের_মারধর_করার_নির্দেশ_দেওয়ায়_বিজেপি_ও_তৃণমূল_নেতার_পাল্টাপাল্টি_মন্তব্য
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের এক নেতা আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক সভায় বিরোধীদের মারধর করার নির্দেশ দেওয়ায় ওই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৩, ২০২২ ১৬:৪৩ Asia/Dhaka
  • পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার
    পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের এক নেতা আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক সভায় বিরোধীদের মারধর করার নির্দেশ দেওয়ায় ওই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল (শনিবার) ভোগালি ২ নম্বর পঞ্চায়েত প্রধান ও তৃণমূল নেতা মুদাসসর হোসেন দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। এ সময়ে তিনি তাদের বিরোধীদের মাথায় না মেরে পাছায় ও হাঁটুতে মারার নির্দেশ দেন। মাথা ফাটালে রক্ত বেরোলে কেস হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এরপরেই ওই ইস্যুতে বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছে।

আজ (রোববার) বিজেপির মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আসলে যে রাজনীতিক দলের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হোঁদলকুতকুত’ বলেন, সর্বভারতীয় শাসকদলের সভাপতিকে ‘নাড্ডা-ফাড্ডা-চাড্ডা’ বলেন, যে দলের একজন মন্ত্রী  গাড়িতে পিসে দেওয়ার কথা বলেন নিজের দলের কর্মীদেরই, আরেকজন বলেন, গোখরো সাপের মত মাথা তুললেই পিটিয়ে মেরে দেওয়া হবে- এই যদি রাজনীতির ভাষা হয়, গুলি করব, দখলদারি ইত্যাদি তাহলে তার পরিণতি এটাই হবে। এটা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এদের একমাত্র কাজ হচ্ছে বুথে লিড দেওয়া। যেকোনো ভাবে ক্ষমতা দখলে রাখা। কোনো মতাদর্শহীন, কর্মসূচিবিহীন রাজনৈতিক দল যদি ঘটনা চক্রে ক্ষমতায় চলে আসে তার পরিণতি এটাই হয়।’      

বিজেপির মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য

এ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার আজ পাল্টা জবাবে বলেন, ‘সহিংসতার কথা আমরা সমর্থন করি না। সামনে যে  পঞ্চায়েত নির্বাচন তা অবাধ ও ন্যায়সঙ্গত হবে সব মানুষের জন্য। আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যেই বলেছেন, সবাই যেন মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারে, সবাই যেন ভোট দিতে পারে। সেই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু উলটো দিকে আমরা বলব যে, বিজেপি এবং সিপিএমকে তারা যেন তাদের কর্মীদের তারা নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা যেন আর কোনো সহিংসতার কথা না বলেন। তারাও যেন বলেন, চলুন আমরা সবাই মিলে পশ্চিমবঙ্গে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য। মানুষের উপর যদি সিপিএম ও বিজেপির ভরসা থাকে, তাহলে তারা কোনোরকম সহিংসতার কথা বলবে না এখন। কারণ তাদের উসকানি, তাদের হিংসার কথা, তার জন্যই কিন্তু এই পরম্পরা চলছে এবং এরকম উক্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি। গ্রামে-গঞ্জে বিজেপি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সহিংসতার উদ্রেক করছে, সহিংসতার কথা বলছে। বারবার বলছে, মারব, ধরব, বোমা-বন্দুকের রাজনীতি করছে’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।#

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।